Sunday, December 11, 2016

আমার বাড়ির মালিক কোনো চাকরি করেন না। বাড়ি ভাড়ার টাকাতেই ওনার সংসার চলে। বেশ ভালো ভাবেই চলে যায়। আপাততঃ উনি চব্বিশটা ফ্ল্যাট আর নিজের বাড়ির একতলাটা ভাড়া দিয়ে রেখেছেন। আরো আটটা নতুন ফ্ল্যাট বানিয়েছেন, তাতে কয়েকমাসের মধ্যেই নতুন ভাড়াটিয়া চলে আসবে। আমাদের বিল্ডিংয়ের সামনে এরপর ওনার কিছু দোকান খোলার প্ল্যান আছে। কাজেই আর আলাদা করে কোথাও চাকরি ওনাকে করতে হয় না। তবে শুধু উনি নন, ওনাদের পাঁচ ভাইয়ের কোনো ভাই-ই চাকরি করেন না। ওনার বাবা কংগ্রেসের এমএলএ ছিলেন। উনি মারা যাওয়ার আগে দশটা বাড়ি বানিয়ে দিয়ে যান, পাঁচ বাড়ি পাঁচ ভাইয়ের থাকার জন্য আর বাকি পাঁচটা পাঁচ ছেলে ভাড়া দেবে বলে।
তবে আমার বাড়ির মালিকের আর কোনো কাজ না থাকার জন্য ভাড়াটিয়াদের কিছু লাভ হয়েছে বৈকি। যেমন আমাদের বিল্ডিংয়ের জন্য আলাদা করে দারোয়ান রাখতে হয়নি, মালিক নিজেই সব সময় বিল্ডিংয়ের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান। প্রয়োজনে উনি টুকটাক ইলেক্ট্রিসিয়ানের কাজটাও চালিয়ে নিয়ে পারেন। সিঁড়ির বাল্ব পাল্টানো, নতুন ফিউজ লাগানো ইত্যাদির জন্য ভাড়াটিয়াদের ছোটাছুটি করতে হয় না, মালিক এসব কাজে ভালোই পারদর্শী। আমার ধারণা প্লাম্বারের কাজও উনি কিছু কিছু নিশ্চয়ই ম্যানেজ করে নিতে পারবেন। সব সময় বিল্ডিংয়েই ঘুরঘুর করার জন্য অনেক সময় আমাদের কমপ্লেন পর্যন্ত করতে হয়না, মালিক স্বত্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেই একটা বন্দোবস্ত করে দেন। তারই একটা উদাহরণ নিচে দিলাম।
আমি অফিসে যাওয়ার সময় প্রায়শই ঘরের ভেতরের মেন্ সুইচটা অফ করে দিয়ে যাই। একা মানুষ, আমি ঘরে না থাকলে ইলেক্ট্রিসিটির প্রয়োজনটাই বা কি! সেদিন আমি অফিস থেকে ফেরার সময় দেখি আমার বাড়ির মালিক বিল্ডিংয়ের নিচে আমার ঘরের মেন্ সুইচ বোর্ডটা খুলে কি করছেন। আমি গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছে? মালিক উত্তর দিলেন উনি অনেকক্ষণ ধরে লক্ষ্য করছেন যে আমার ইলেক্ট্রিকের মিটারটা ঘুরছে না তাই সমস্যাটা কোথায় সেটাই উনি বোঝার চেষ্টা করছেন।

No comments: