আগে কি ফাটতো, এখন কি ফাটছে?
আগেকার সাহিত্যে এই ধরণের কথা মাঝে মাঝেই খুঁজে পেতাম -- "বুক ফেটে কান্না" কিংবা "বুক ফাটা আর্তনাদ"। এর থেকে আন্দাজ করা যায় আগেকার দিনে মানুষের বুক প্রায়শই ফাটতো। কিন্তু আজকালকার কথোপকথনে ও হালফিলের লেখাতে বুক ফাটার প্রসঙ্গ একবারও দেখতে পাইনা।
দেশজুড়ে দুর্নীতি, অপর জেলায় বন্যা, টিউশনে শ্লীলতাহানি অথবা পাশের বাড়িতে চুরি -- কোনো কিছুতেই বোধ করি বাঙালির বুক আর আগের মতো সহজে ফাটে না। এসব এখন আমাদের কাছে জলভাত। বড়জোর ফেসবুকে "ওয়ান শেয়ার একুয়াল টু ওয়ান প্রেয়ার" এই মর্মে কিছু পোস্ট লাগানো অবধি আমাদের দৌড়।
বিপরীতভাবে আমাদের শরীরের উল্টোদিকের নিম্নাংশটি কিন্তু ইদানিং ভীষণ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। যখন তখন যে সে ফাটিয়ে দিচ্ছে। অফিসের বড়বাবু হুকুম জারি করলেন প্রত্যেককে কাল থেকে সময়মত অফিসে ঢুকতে হবে -- অর্থাৎ আপনার এতদিনের দুলকি চালে অফিস আসার অভ্যাসে ছেদ পড়লো -- ব্যাস, অমনি ফেটে গেলো। বাড়িওয়ালা ঘরে এসে জানিয়ে গেলেন ফি মাসে পাঁচ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিতে হবে -- তৎক্ষণাৎ ফট-ফট-ফটাস! (অবশ্যই এই শব্দটা আমার মস্তিস্কপ্রসূত, ব্যক্তিভেদে শব্দের তারতম্য খানিক হতেই পারে।) বাজার করতে গিয়ে দোকানির কাছে শুনলেন বন্যার জন্য সাপ্লাই কম তাই পেয়াঁজ আজ ৫০ টাকা কিলো -- অমনি শরীরের বিশেষ অংশটি ভেঙে খান-খান। (খেয়াল করবেন সরাসরি ভুক্তভুগিদের কথা বাদ দিলে আমরা বাকিরা কিন্তু বন্যার কথা শুনে অতোটা দুঃখ পাইনি যতটা সব্জির দাম বাড়ায় পেয়েছি।) মায় কাজের লোক পর্যন্ত কামাই করলে "ধরণী দ্বিধা হতে" দেরি হয় না।
তাই আমার মতে এখনকার ইয়ে ফাটার চেয়ে বোধ হয় বাঙালির আগেকার বুক ফাটার অভ্যেসটাই ভালো ছিলো।
আগেকার সাহিত্যে এই ধরণের কথা মাঝে মাঝেই খুঁজে পেতাম -- "বুক ফেটে কান্না" কিংবা "বুক ফাটা আর্তনাদ"। এর থেকে আন্দাজ করা যায় আগেকার দিনে মানুষের বুক প্রায়শই ফাটতো। কিন্তু আজকালকার কথোপকথনে ও হালফিলের লেখাতে বুক ফাটার প্রসঙ্গ একবারও দেখতে পাইনা।
দেশজুড়ে দুর্নীতি, অপর জেলায় বন্যা, টিউশনে শ্লীলতাহানি অথবা পাশের বাড়িতে চুরি -- কোনো কিছুতেই বোধ করি বাঙালির বুক আর আগের মতো সহজে ফাটে না। এসব এখন আমাদের কাছে জলভাত। বড়জোর ফেসবুকে "ওয়ান শেয়ার একুয়াল টু ওয়ান প্রেয়ার" এই মর্মে কিছু পোস্ট লাগানো অবধি আমাদের দৌড়।
বিপরীতভাবে আমাদের শরীরের উল্টোদিকের নিম্নাংশটি কিন্তু ইদানিং ভীষণ ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। যখন তখন যে সে ফাটিয়ে দিচ্ছে। অফিসের বড়বাবু হুকুম জারি করলেন প্রত্যেককে কাল থেকে সময়মত অফিসে ঢুকতে হবে -- অর্থাৎ আপনার এতদিনের দুলকি চালে অফিস আসার অভ্যাসে ছেদ পড়লো -- ব্যাস, অমনি ফেটে গেলো। বাড়িওয়ালা ঘরে এসে জানিয়ে গেলেন ফি মাসে পাঁচ তারিখের মধ্যে ভাড়া দিতে হবে -- তৎক্ষণাৎ ফট-ফট-ফটাস! (অবশ্যই এই শব্দটা আমার মস্তিস্কপ্রসূত, ব্যক্তিভেদে শব্দের তারতম্য খানিক হতেই পারে।) বাজার করতে গিয়ে দোকানির কাছে শুনলেন বন্যার জন্য সাপ্লাই কম তাই পেয়াঁজ আজ ৫০ টাকা কিলো -- অমনি শরীরের বিশেষ অংশটি ভেঙে খান-খান। (খেয়াল করবেন সরাসরি ভুক্তভুগিদের কথা বাদ দিলে আমরা বাকিরা কিন্তু বন্যার কথা শুনে অতোটা দুঃখ পাইনি যতটা সব্জির দাম বাড়ায় পেয়েছি।) মায় কাজের লোক পর্যন্ত কামাই করলে "ধরণী দ্বিধা হতে" দেরি হয় না।
তাই আমার মতে এখনকার ইয়ে ফাটার চেয়ে বোধ হয় বাঙালির আগেকার বুক ফাটার অভ্যেসটাই ভালো ছিলো।
No comments:
Post a Comment