Monday, June 29, 2015

নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে অজ্ঞতার জন্যে আমাদের প্রত্যেকের ভেতর আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারপ্রণালী নিয়ে কম বেশি ভীতি থাকে। আমি নিজেই যেমন গাড়ির সামনে বসে প্রথমবার সিট্ বেল্ট এমন ভাবে বেঁধেছিলাম যা অভিনব ছিলো, সাথে হাস্যকরও। এই প্রসঙ্গে আরো দুটো ছোট ঘটনা বলি।

তখন সবে ল্যান্ড লাইন লোকজনের বাড়িতে ঢুকতে শুরু করেছে। এরকম সময় একবার লোডশেডিং চলাকালীন ফোনের রিং হওয়ায় আমার এক পিসী সেটিকে রীতিমত ভৌতিক ঘটনা বলে ঠাওরায়, আসলে তখন পিসীর ধারণা ছিলো অন্যান্য অনেক যন্ত্রপাতির মতো ফোনও ইলেকট্রিকে চলে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটিয়ে ছিলো আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের এক কর্মচারী। বহুদিন আগের ঘটনা, এক ছাত্র ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের অফিসে গেছে এক পাতা প্রিন্ট নেবে বলে। তখন অফিসে শুধু এই কর্মচারীটিই ছিলো। সে ছাত্রটিকে প্রিন্ট দেওয়া যাবে না বলে জানায়। ছাত্রটি বলে সে আইআইটির ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের স্টুডেন্ট হওয়ার দরুণ অফিস থেকে প্রিন্ট নেওয়ার অধিকার তার আছে। ছাত্রটির উত্তর শুনে কর্মচারীটি ঘাবড়ে গিয়ে সত্যি কথাটা ফাঁস করে দেয়: অফিসের (একমাত্র) প্রিন্টারটিতে কেউ একজন ২৬৬ পাতা প্রিন্ট দিয়ে চলে গেছে, এদিকে অফিসে অত পাতা নেই। ছাত্রটি জানায় যে এটা কোনো সমস্যাই নয় ওই pending job-টাকে cancel করে দিলেই চলবে। ছাত্রটির কথায় কর্মচারীটির বিশ্বাস হয়না, সে জানায় যে এভাবে job cancel করলে প্রিন্টারের বিশেষ ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে। তাই সে নিজেই বুদ্ধি করে একটা পাতা জোগাড় করে সেই একটা পৃষ্ঠাতেই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ২৬৬ পাতা প্রিন্ট নেয়।

----------------

এই সংক্রান্ত আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো। বিটেকের প্রথম বর্ষে আমার এক বন্ধু আরেক বন্ধুকে (ইয়ার্কি করে) শিখিয়েছিলো যে সিডি যেদিক করে ঢুকিয়ে ভিডিও গেম ইনস্টল করতে হয় তার উল্টো দিক করে সিডিটা ঢুকিয়ে গেমটা খেলতে হয়। দ্বিতীয় বন্ধুটি কিন্তু অজ্ঞানতা বশতঃ ভেবেছিলো এরকমটাই বুঝি নিয়ম, মানে ক্যাসেটের যেমন দুদিকেই গান থাকে খানিকটা সেরকম। 

No comments: