Friday, June 19, 2015

এক গ্রামে একটা মেয়ের উপর ভূতের ভর হয়েছে। মেয়েটি হাতের সামনে যা পাচ্ছে তাই ছুঁড়ে ছুঁড়ে ফেলে দিচ্ছে। অবস্থা সামাল দিতে পাশের গ্রাম থেকে এক ওঝাকে ডেকে আনা হলো। অনেক চেষ্টাচরিত্র করেও সেই ওঝা মেয়েটাকে সুস্থ করে তুলতে পারলো না। অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়ে সে বললো যে মেয়েটার উপর আসলে ভূতের নয় পেত্নীর ভর হয়েছে তাই এই সমস্যার সমাধান কোনো মহিলা ওঝার পক্ষেই সম্ভব। চারদিকে মহিলার ওঝার খোঁজ শুরু হয়ে গেলো কিন্তু বহু খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও মহিলা ওঝা পাওয়া গেলো না। পাওয়া যাবে কি করে? পুরো সমাজটাই তো পুরুষ-তান্ত্রিক।

অনেকদিন আগে রাজীব ব্যানার্জ্জী নামক মীরাক্কেলের এক প্রতিযোগীর মুখে এই জোকটা শুনেছিলাম। সত্যি, আজও নারী পুরুষের প্রভেদ সর্বত্র প্রতীয়মান। কিন্তু নারী পুরুষের মধ্যে এই পার্থক্যকারী রেখাটি কোথায় সবচেয়ে বিরল বলুন তো? আমার তো মনে হয় ক্লাস ফোর-ফাইভ-সিক্সের ইতিহাস বইয়ের পাতায়। শুনে অবাক হচ্ছেন, তাহলে আরেকটু খোলসা করে বলি।

যে কোনো ক্লাস ফোর-ফাইভ-সিক্সের বাচ্চার ইতিহাস বইয়ের পাতা উল্টে দেখুন -- দেখবেন নারী পুরুষ নির্বিচারে প্রত্যেক ব্যক্তির ছবিতে এক মুখ দাড়ি। সে (প্রায়) মাকুন্দ চেঙ্গিস খানই হোক, পরাক্রমী রানি লক্ষ্মীবাঈ বা সুন্দরী মমতাজ, সবারই গালে শোভা পাচ্ছে একরাশ দাড়ি-গোঁফ। কেউ কেউ অবশ্য মানানসই হবে বিচার করে গৌতম বুদ্ধের মুখে ফ্রেঞ্চকাট বসিয়ে দেয়, সাথে হয়তো ডান গালে একটা বড় আঁচিল। মোদ্দা কথা, (আমার ধারণা) নীচু ক্লাসে ইতিহাসের পড়া শোনার চেয়ে শ্মশ্রু-গুম্ফ অঙ্কন শিল্পেই ছাত্র ছাত্রীদের মনোযোগ থাকে বেশি। এ বোধ হয় একধরণের বয়সোচিত মহামারী এবং শিশু বলেই এদের ভেতর কোনো বৈষম্য নেই।

No comments: