আমি যখন স্কুলে পড়তাম তখন সাঁতরাগাছি একটা ছোটখাটো মফস্বল ছিল। কলকাতার যাত্রীরা হাওড়ায় যেত, আগেই সাঁতরাগাছিতে নেমে পড়তো না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই এখনকার মতো এতো জনসমাগম, যানবাহন, দোকান-পাট ছিল না। আমরা পড়তামও সবাই পাড়ার স্কুলে, বাচ্ছা ছেলেমেয়েদেরকে কলকাতার স্কুলে পাঠানোর হিড়িকটাও তখন ছিল না। তবে মফস্বলের স্কুলে পড়লে কি হবে, দস্যিপনায় আমরা কলকাতার তাবড় তাবড় স্কুলকেও টেক্কা দিতে পারতাম। তার উপর আমাদের ক্লাসটা ছিল একেবারে বিষ ছেলেপুলেতে ভর্তি।
একদিন টিফিন পিরিয়ডে আমাদের ক্লাসে বিপুল হৈচৈ শুনে হেডস্যার ক্লাসে ঢুকে পড়েন। ওনাকে দেখেই অবশ্য আমরা সবাই চুপ করে যাই। হেডস্যার আমাদের স্কুলে শান্তি ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কিছুক্ষণ লেক্চার দেন। এরপর কোনো কারণে তাঁর নজর গিয়ে পড়ে আমাদের ক্লাসের দেওয়ালের উপর। নিউটনের সূত্র, তার ডানদিকে জ্যামিতিক প্রুফ, তার ঠিক উপরেই পেনসিলে আঁকা একটি রসালো ছবি আর তার ঠিক বাঁদিকেই কিছু বাছাই করা কাঁচা খিস্তি। সর্বত্র ক্লাসের দেওযালে এহেন শিল্পকলা দেখে তো হেডস্যারের চক্ষু চড়কগাছ। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন: "স্কুলে এসে তোমরা এসব কি শিখছো? আমরা কি তোমাদের সঠিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি?" আমাদের শাস্তি বিধান হলো সমস্ত লেখা, সমস্ত ছবি ক্লাসের দেওয়াল থেকে ঘষে তুলে ফেললে তবে আমাদের সেদিন ছুটি হবে। আমরা আমাদের কাঠের স্কেল দিয়ে দেওয়াল ঘষতে শুরু করে দিলাম। কিছু ছেলে কোথা থেকে ঝাঁটা আর বালতি জোগাড় করে ফেললো। ঘষতে ঘষতে দেওয়ালের চুনকাম উঠে গেল, পলেস্তারা খসে পড়লো, মায় ইঁট পর্যন্ত উঁকি দিতে লাগলো। লাল-সাদা গুঁড়ো চুলে জামায় মেখে আমাদের ক্লাসের সবাই সেদিন বাড়ি ফিরেছিলাম।
(শৌভিকদার স্মৃতি থেকে -- তবে সামান্য পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত)
একদিন টিফিন পিরিয়ডে আমাদের ক্লাসে বিপুল হৈচৈ শুনে হেডস্যার ক্লাসে ঢুকে পড়েন। ওনাকে দেখেই অবশ্য আমরা সবাই চুপ করে যাই। হেডস্যার আমাদের স্কুলে শান্তি ও নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কিছুক্ষণ লেক্চার দেন। এরপর কোনো কারণে তাঁর নজর গিয়ে পড়ে আমাদের ক্লাসের দেওয়ালের উপর। নিউটনের সূত্র, তার ডানদিকে জ্যামিতিক প্রুফ, তার ঠিক উপরেই পেনসিলে আঁকা একটি রসালো ছবি আর তার ঠিক বাঁদিকেই কিছু বাছাই করা কাঁচা খিস্তি। সর্বত্র ক্লাসের দেওযালে এহেন শিল্পকলা দেখে তো হেডস্যারের চক্ষু চড়কগাছ। তিনি চেঁচিয়ে উঠলেন: "স্কুলে এসে তোমরা এসব কি শিখছো? আমরা কি তোমাদের সঠিক শিক্ষা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি?" আমাদের শাস্তি বিধান হলো সমস্ত লেখা, সমস্ত ছবি ক্লাসের দেওয়াল থেকে ঘষে তুলে ফেললে তবে আমাদের সেদিন ছুটি হবে। আমরা আমাদের কাঠের স্কেল দিয়ে দেওয়াল ঘষতে শুরু করে দিলাম। কিছু ছেলে কোথা থেকে ঝাঁটা আর বালতি জোগাড় করে ফেললো। ঘষতে ঘষতে দেওয়ালের চুনকাম উঠে গেল, পলেস্তারা খসে পড়লো, মায় ইঁট পর্যন্ত উঁকি দিতে লাগলো। লাল-সাদা গুঁড়ো চুলে জামায় মেখে আমাদের ক্লাসের সবাই সেদিন বাড়ি ফিরেছিলাম।
(শৌভিকদার স্মৃতি থেকে -- তবে সামান্য পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত)
No comments:
Post a Comment