Saturday, April 16, 2016

আগের দিন একটা ডকুমেন্টারীতে দেখলাম যে ওষুধ কোম্পানিরা কোনো নতুন ওষুধ বাজারে ছাড়ার আগে সেটা কিছু রুগীর উপর পরীক্ষা করে দেখে নেয়। অবশ্যই যে সমস্ত রুগীরা স্বেচ্ছায় এই নতুন ওষুধটি নিজেদের উপর যাচাই করতে রাজি হয় শুধুমাত্র তাদের উপরেই নতুন চিকিত্সা পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা হয়। কখনো কখনো এধরণের পরীক্ষায় সম্মতি জানালে ওষুধ কোম্পানির তরফ থেকে কিছু টাকা রুগীদের দেওয়া হয়। বিস্ময়কর ব্যাপারটি হলো এই সমস্ত রুগীদের মধ্যে অর্ধেককে আসল ওষুধটি দেওয়া হয়, বাকিদের একইরকম দেখতে চিনির ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল দেওয়া হয় যার কোনো গুণগত মান নেই -- এই নকল ওষুধটিকে placebo বলা হয়ে থাকে। প্রত্যেক রুগীই ভাবেন তিনি বুঝি আসল ওষুধটাই খাচ্ছেন, এদিকে ডাক্তাররা লক্ষ্য রাখেন যাঁরা আসল ওষুধটি খাচ্ছেন তারা বাকিদের থেকে কতোটা ভালো বা মন্দ আছেন। ডাক্তাররা ওষুধের কার্যকারিতা সম্বন্ধে নিশ্চিত হলে তবেই ওষুধটি বাজারে ছাড়া হয়।
অ্যাদ্দূর অবধি যা পড়লেন সে সমস্ত খবর হয়তো পাঠকদের আগে থেকেই জানা আছে। ভেবে দেখার বিষয় হলো কি ধরণের রুগীরা এধরণের পরীক্ষা নিজেদের উপর করতে রাজি হয়। কেউ কেউ হয়তো অর্থোপার্জনের জন্য সম্মতি জানায় তবে আমার ধারণা সাধারনতঃ যে সব রুগীদের ক্ষেত্রে অন্যান্য সকল গতানুগতিক চিকিত্সা ফলপ্রসু হয়নি তাঁরাই শেষ চেষ্টা ভেবে নতুন ওষুধটি ব্যবহার করতে রাজি হন। তাদের মধ্যে অর্ধেককে প্লাসেবো অর্থাৎ নকল ওষুধ দেওয়াটা একধরণের প্রতারণা নয় কি?
তবে কিনা ওষুধটির কর্মক্ষমতা যাচাই করার এটাই হয়তো শ্রেষ্ঠ উপায়। মানবকুলের রক্ষার্থে কিছু মানবকে বলিদান তো দিতেই হবে। বৃহত্তর স্বার্থে ক্ষুদ্রতর স্বার্থ ত্যাগ করতেই হবে -- এটাই আমার মতে কম্যুনিজমের ভিত।

No comments: