Techsym নামক একটি সম্মেলন আইআইটি খড়্গপুরের স্টুডেন্টরা নিয়মিত ভাবে প্রতি বছর আয়োজন করে আসছে। ২০১১ সালে তালেগোলে আমি এই সম্মেলনের একজন উদ্যোক্তার পদ লাভ করেছিলাম। আমার প্রধান দায়িত্ব ছিল গত প্রত্যেক বছরের মতো সে বছরেও স্থানীয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটি কুইজ এবং একটি সায়েন্স এক্সিবিশন সংগঠন করা। আমার মতো করিত্কর্মা ছেলেকে একাজের দায়ভার দেওয়ার ফল হলো যে সেবছর থেকে এই দুটি অনুষ্ঠান সম্মেলনের কর্মসুচি থেকে চিরতরে কাটা পড়লো। আমাকে "ট্রেন্ড-কিলার" বলা উচিৎ না "ট্রেন্ড-সেটার" সে বিচার সমালোচকদের উপর ছেড়ে দিয়ে আপাতত আমরা আমার এই সম্মেলনের দ্বিতীয় কার্যভারের গল্পে চলে আসি।
এই দায়িত্বটি তুলনামূলক ভাবে বেশ সোজা -- গাড়ি করে খড়্গপুর থেকে কলকাতা এয়ারপোর্ট যাওয়া আর সেখান থেকে এক নিমন্ত্রিত অতিথিকে সেই গাড়ি করে খড়্গপুর গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা। আমাদের সম্মেলনের ক্যাশিয়র প্রদীপ্ত জানালো যে এই জার্নির সময় গেস্টের এন্টারটেইনমেন্টের বাবদ যদি কিছু জলখাবারের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে সে সমস্ত খরচা বিল দেখালে সম্মেলনের ফান্ড থেকে আমাকে ফেরৎ দিয়ে দেওয়া হবে। উপরন্তু এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় পুরো রাস্তা একা একা যাওয়াটা অনেকেরই বিরক্তিকর লাগে বলে ঠিক হলো আমার সাথে আমার রুমমেট সৌম্যও যাবে। দুই উর্বর মস্তিস্ক আর বৃহৎ উদর এক হলে যা হয় তাই হলো। আমরা দুজন কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের সামনের কফি হাউস থেকেই আমাদের পেটপুজো শুরু করে দিলাম, অবশ্যই বিলগুলো জোগাড় করে নিতে ভুলিনি। এয়ারপোর্টে পৌঁছে প্রথমেই আমরা হানা দিলাম সেখানকার CCD-তে। সে সময় CCD ছিল আমাদের কাছে দুর্লভ বস্তু, তখন যা স্কলারশিপ পেতাম তাতে CCD-তে ঢোকার কথা আমরা ভাবতেই পারতাম না -- নেহাৎ রিফান্ড পেয়ে যাব তাই সেদিন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ঢোকা। এদিকে আমাদের সেই নিমন্ত্রিত অতিথি এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আমাদেরকে নির্দিষ্ট জায়গায় দেখতে না পেয়ে আমাকে ফোন করলেন। আমি তো CCD-তে বসে ফোন ধরে বিস্মিত ভঙ্গিতে তাকেই জিজ্ঞেস করলাম কোথায় তিনি, আমরা তো এদিকে তাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি।
এই অতিথির নাম উহ্যই থাক -- শুধু শুধু এক ভদ্রলোককে এই গল্পের মাঝে টেনে এনে লাভ নেই। তবুও গল্পের খাতিরে আমরা তাকে মাইক্রোবাবু বলবো। (উনি মাইক্রোসফ্ট-এ চাকরি করেন তো, তাই।) মাইক্রোবাবুর সাথে আমি আর সৌম্য নানা কথা বলতে বলতে ফিরছি, এদিকে আমাদের দুজনেরই মাথায় ঘুরছে মাইক্রোবাবুকে রাজি করিয়ে যদি মাঝখানে কোলাঘাটে গাড়ি থামিয়ে "শের-ই-পাঞ্জাব" নামক হোটেলটায় ডিনারটা সেরে ফেলা যায় তাহলে মন্দ হয় না। তাই আমি আর সৌম্য পালা করে মাইক্রোবাবুকে খানিকক্ষণ পরপর ওনার ক্ষিদে পেয়েছে কিনা সেটা ওনাকে জিজ্ঞেস করে যাচাই করে নিচ্ছিলাম। উনি যতো "না" বলেন আমরা ততো জোর দিয়ে বলি উনি যেন কোনো মতেই লজ্জা করে ক্ষিদে পাওয়ার (সু)-সংবাদটা আমাদের কাছে লুকিয়ে না রাখেন। কিন্তু আমাদের মনোস্কামনা পূর্ণ না করে গাড়ি একেবারে আইআইটির গেস্ট হাউসে এসেই থামলো। গেস্ট হাউসে পৌঁছে জানতে পারলাম আমাদের ফিরতে দেরি হতে পারে ভেবে মাইক্রোবাবুর সাথে আমার আর সৌম্যার ডিনারের ব্যবস্থাও গেস্ট হাউসে সেদিন করা হয়েছে। মাইক্রোবাবুর বরাত সত্যিই ভালো বলতে হবে, না হলে সেদিন রাত্রে ওনাকে আমার আর সৌম্যার এতো অভিশাপ কুড়োতে হতো ...
তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। পরদিন ক্যাশিয়র প্রদীপ্তকে আমাদের খাবারের বিলগুলো জমা দেওয়াতে সে দেখে বললো: "গেস্টের এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ সমস্ত খরচা রিফান্ড করার কথা ছিল কিন্তু তোদের সমস্ত বিলেই প্রত্যেকটা আইটেম দুটো করে দেখছি কেন? গেস্ট প্লাস তোরা দুজন অর্থাৎ তিনটে করে আইটেম থাকা উচিৎ তো !" যাই হোক, বন্ধু বলে ক্ষমা ঘেন্না করে রিফান্ডটা শেষমেশ করে দিয়েছিল প্রদীপ্ত।
সামনেই ২০১৬ সালের Techsym অনুষ্ঠিত হতে চলেছে -- আমার এই লেখা এবছরের কোনো উদ্যোক্তা পড়ে ফেললেই চিত্তির।
এই দায়িত্বটি তুলনামূলক ভাবে বেশ সোজা -- গাড়ি করে খড়্গপুর থেকে কলকাতা এয়ারপোর্ট যাওয়া আর সেখান থেকে এক নিমন্ত্রিত অতিথিকে সেই গাড়ি করে খড়্গপুর গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা। আমাদের সম্মেলনের ক্যাশিয়র প্রদীপ্ত জানালো যে এই জার্নির সময় গেস্টের এন্টারটেইনমেন্টের বাবদ যদি কিছু জলখাবারের ব্যবস্থা করতে হয় তাহলে সে সমস্ত খরচা বিল দেখালে সম্মেলনের ফান্ড থেকে আমাকে ফেরৎ দিয়ে দেওয়া হবে। উপরন্তু এয়ারপোর্টে যাওয়ার সময় পুরো রাস্তা একা একা যাওয়াটা অনেকেরই বিরক্তিকর লাগে বলে ঠিক হলো আমার সাথে আমার রুমমেট সৌম্যও যাবে। দুই উর্বর মস্তিস্ক আর বৃহৎ উদর এক হলে যা হয় তাই হলো। আমরা দুজন কম্পিউটার সায়েন্স ডিপার্টমেন্টের সামনের কফি হাউস থেকেই আমাদের পেটপুজো শুরু করে দিলাম, অবশ্যই বিলগুলো জোগাড় করে নিতে ভুলিনি। এয়ারপোর্টে পৌঁছে প্রথমেই আমরা হানা দিলাম সেখানকার CCD-তে। সে সময় CCD ছিল আমাদের কাছে দুর্লভ বস্তু, তখন যা স্কলারশিপ পেতাম তাতে CCD-তে ঢোকার কথা আমরা ভাবতেই পারতাম না -- নেহাৎ রিফান্ড পেয়ে যাব তাই সেদিন সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে ঢোকা। এদিকে আমাদের সেই নিমন্ত্রিত অতিথি এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে আমাদেরকে নির্দিষ্ট জায়গায় দেখতে না পেয়ে আমাকে ফোন করলেন। আমি তো CCD-তে বসে ফোন ধরে বিস্মিত ভঙ্গিতে তাকেই জিজ্ঞেস করলাম কোথায় তিনি, আমরা তো এদিকে তাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে গেছি।
এই অতিথির নাম উহ্যই থাক -- শুধু শুধু এক ভদ্রলোককে এই গল্পের মাঝে টেনে এনে লাভ নেই। তবুও গল্পের খাতিরে আমরা তাকে মাইক্রোবাবু বলবো। (উনি মাইক্রোসফ্ট-এ চাকরি করেন তো, তাই।) মাইক্রোবাবুর সাথে আমি আর সৌম্য নানা কথা বলতে বলতে ফিরছি, এদিকে আমাদের দুজনেরই মাথায় ঘুরছে মাইক্রোবাবুকে রাজি করিয়ে যদি মাঝখানে কোলাঘাটে গাড়ি থামিয়ে "শের-ই-পাঞ্জাব" নামক হোটেলটায় ডিনারটা সেরে ফেলা যায় তাহলে মন্দ হয় না। তাই আমি আর সৌম্য পালা করে মাইক্রোবাবুকে খানিকক্ষণ পরপর ওনার ক্ষিদে পেয়েছে কিনা সেটা ওনাকে জিজ্ঞেস করে যাচাই করে নিচ্ছিলাম। উনি যতো "না" বলেন আমরা ততো জোর দিয়ে বলি উনি যেন কোনো মতেই লজ্জা করে ক্ষিদে পাওয়ার (সু)-সংবাদটা আমাদের কাছে লুকিয়ে না রাখেন। কিন্তু আমাদের মনোস্কামনা পূর্ণ না করে গাড়ি একেবারে আইআইটির গেস্ট হাউসে এসেই থামলো। গেস্ট হাউসে পৌঁছে জানতে পারলাম আমাদের ফিরতে দেরি হতে পারে ভেবে মাইক্রোবাবুর সাথে আমার আর সৌম্যার ডিনারের ব্যবস্থাও গেস্ট হাউসে সেদিন করা হয়েছে। মাইক্রোবাবুর বরাত সত্যিই ভালো বলতে হবে, না হলে সেদিন রাত্রে ওনাকে আমার আর সৌম্যার এতো অভিশাপ কুড়োতে হতো ...
তবে গল্প এখানেই শেষ নয়। পরদিন ক্যাশিয়র প্রদীপ্তকে আমাদের খাবারের বিলগুলো জমা দেওয়াতে সে দেখে বললো: "গেস্টের এন্টারটেইনমেন্ট বাবদ সমস্ত খরচা রিফান্ড করার কথা ছিল কিন্তু তোদের সমস্ত বিলেই প্রত্যেকটা আইটেম দুটো করে দেখছি কেন? গেস্ট প্লাস তোরা দুজন অর্থাৎ তিনটে করে আইটেম থাকা উচিৎ তো !" যাই হোক, বন্ধু বলে ক্ষমা ঘেন্না করে রিফান্ডটা শেষমেশ করে দিয়েছিল প্রদীপ্ত।
সামনেই ২০১৬ সালের Techsym অনুষ্ঠিত হতে চলেছে -- আমার এই লেখা এবছরের কোনো উদ্যোক্তা পড়ে ফেললেই চিত্তির।
No comments:
Post a Comment