আমাদের বাড়ির কাছে "পদ্মশ্রী" নামক একটা ফালতু সিনেমা হল আছে। সিনেমা হলটার দুর্নাম আগে শুনেছিলাম বটে তবে হলটা কতোটা বাজে সে সম্বন্ধে সঠিক ধারণা না থাকায় আমি আর দাদা একবার ভুল করে "Krish" সিনেমাটা দেখতে ওই হলে ঢুকে পড়ি।
প্রথমত, এই সিনেমা হলের টিকিটে কোনো সিট নম্বর থাকে না। টিকিট কেটে একবার ঢুকে পড়লে যে কেউ যে কোনো ফাঁকা সিটে বসে পড়তে পারে। আমি আর দাদা সিনেমা শুরু হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে টিকিট কেটে হলে ঢুকি। ভেবেছিলাম সমস্ত সারির মাঝখানের সিটগুলো নিশ্চয়ই এতোক্ষণে বেদখল হয়ে গেছে, কিন্তু ঢুকে দেখি যে দর্শকরা ধারের সিটগুলো ভর্তি করে ফেলেছে -- মাঝখানের সিট মোটামুটি ফাঁকা। নিজেদের সৌভাগ্যবান ভেবে আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে মাঝখানের দুটো সিটে বসে পড়ি এবং সামান্য সময়ের মধ্যে এই হলের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি আবিষ্কার করি -- এই হলের সমস্ত ফ্যান দুইদিকের দেয়ালে লাগানো, তাই ধারের সিটে বসা দর্শকরাই শুধু হাওয়া খেতে পারে। এদিকে মাঝখানের সিটে বসে আমরা কুল কুল করে ঘামছি।
যাই হোক, সিনেমা তো শুরু হল। শারীরিক কষ্ট ভুলে সিনেমাতে ডুব দিলাম। শুরুতেই চমক: (সিনিয়র) হৃতিক রোশন একটি দুর্ঘটনায় মারা পড়লো। পাশ থেকে কে একজন সংবেদনশীল মহিলা দর্শক বলে উঠলো: "এ মা ! হৃতিক মারা গেলো।" হলে বসে সিনেমা দেখার সময় টুকটাক এমন মন্তব্য কানে আসবেই -- তাতে বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই, বরং মাঝেমাঝে কিছু চটুল মন্তব্য পরিবেশটাকে আরো জমিয়ে তোলে। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বেয়াড়া দিকে মোড় নিলো সামনের সারি থেকে এক পুরুষ দর্শকের ভেসে আসা মন্তব্যে: "আপনি চিন্তা করবেন না ম্যাডাম -- হৃতিক মরেনি, ওকে ভিলেনরা বন্দী করে রেখেছে। ছেলে হৃতিক ক্রিশ হয়ে বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।" এ কি জ্বালাতন ! সিনেমার গল্প কেও আগে থেকে বলে দিলে আমার মোটেও ভালো লাগে না। সিনেমা শেষ হওয়ার পর হলে যখন আলো জ্বলে উঠলো তখন লক্ষ্য করলাম সামনের সারির সেই জ্ঞানী দর্শকটি পদ্মশ্রী হলের টিকিট চেকার।
প্রথমত, এই সিনেমা হলের টিকিটে কোনো সিট নম্বর থাকে না। টিকিট কেটে একবার ঢুকে পড়লে যে কেউ যে কোনো ফাঁকা সিটে বসে পড়তে পারে। আমি আর দাদা সিনেমা শুরু হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে টিকিট কেটে হলে ঢুকি। ভেবেছিলাম সমস্ত সারির মাঝখানের সিটগুলো নিশ্চয়ই এতোক্ষণে বেদখল হয়ে গেছে, কিন্তু ঢুকে দেখি যে দর্শকরা ধারের সিটগুলো ভর্তি করে ফেলেছে -- মাঝখানের সিট মোটামুটি ফাঁকা। নিজেদের সৌভাগ্যবান ভেবে আমরা তাড়াতাড়ি গিয়ে মাঝখানের দুটো সিটে বসে পড়ি এবং সামান্য সময়ের মধ্যে এই হলের দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্যটি আবিষ্কার করি -- এই হলের সমস্ত ফ্যান দুইদিকের দেয়ালে লাগানো, তাই ধারের সিটে বসা দর্শকরাই শুধু হাওয়া খেতে পারে। এদিকে মাঝখানের সিটে বসে আমরা কুল কুল করে ঘামছি।
যাই হোক, সিনেমা তো শুরু হল। শারীরিক কষ্ট ভুলে সিনেমাতে ডুব দিলাম। শুরুতেই চমক: (সিনিয়র) হৃতিক রোশন একটি দুর্ঘটনায় মারা পড়লো। পাশ থেকে কে একজন সংবেদনশীল মহিলা দর্শক বলে উঠলো: "এ মা ! হৃতিক মারা গেলো।" হলে বসে সিনেমা দেখার সময় টুকটাক এমন মন্তব্য কানে আসবেই -- তাতে বিরক্ত হওয়ার কিছু নেই, বরং মাঝেমাঝে কিছু চটুল মন্তব্য পরিবেশটাকে আরো জমিয়ে তোলে। তবে এই ক্ষেত্রে ব্যাপারটা বেয়াড়া দিকে মোড় নিলো সামনের সারি থেকে এক পুরুষ দর্শকের ভেসে আসা মন্তব্যে: "আপনি চিন্তা করবেন না ম্যাডাম -- হৃতিক মরেনি, ওকে ভিলেনরা বন্দী করে রেখেছে। ছেলে হৃতিক ক্রিশ হয়ে বাবাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।" এ কি জ্বালাতন ! সিনেমার গল্প কেও আগে থেকে বলে দিলে আমার মোটেও ভালো লাগে না। সিনেমা শেষ হওয়ার পর হলে যখন আলো জ্বলে উঠলো তখন লক্ষ্য করলাম সামনের সারির সেই জ্ঞানী দর্শকটি পদ্মশ্রী হলের টিকিট চেকার।
No comments:
Post a Comment