Wednesday, April 20, 2016

লেখক: পর্ব ৯

মানুষের প্রিয়তম বস্তুগুলির মধ্যে অন্যতম হলো -- মাথার চুল। আয়নার সামনে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা চুলের পরিচর্যা করতে আমি অনেক মানুষকে দেখেছি। এই সব মানুষদের কাছে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হলো টাক পড়া। এসম্বন্ধে আরেকটু বিশদে জানতে হলে (বহুদিন আগে লেখা) আমার "ইন্দ্রলুপ্তি" শীর্ষক লেখাটায় একবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন।
তবে চুলের যত্নয়াত্তি সম্বন্ধে আমি এবং আমার দাদা কিন্তু সর্বসাধারণের তুলনায় অনেকটাই উদাসীন। এর কারণ আমাদের বাবা। ছোটবেলা থেকে অনেক বড়বেলা অবধি বাবা আমাদের চুল বড় হয়েছে দেখলেই তত্ক্ষণাৎ আমাদেরকে নিয়ে ইটালিয়ান সেলুনে গিয়ে নাপিতকে কঠোর নির্দেশ দিতেন: "চুল একদম ছোট হবে। দেখলেই যেন মনে হয় সাতদিন আগে ন্যাড়া হয়েছে।" চুল কাটা শেষে বাবা আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেখে নিতেন চুলের দৈর্ঘ্য তাঁর মনোমত হয়েছে কিনা, চুল যথেষ্ট ছোট হয়নি বলে মনে হলে নাপিতকে আবার হাত লাগাতে হতো। (আপনাদের মধ্যে কেউ কেউ কি ভাবছেন "ইটালিয়ান সেলুন" বুঝি আহামরি কিছু? আরে ধুস, ইটালিয়ান সেলুন মানে সেই সমস্ত সেলুন যেখানে ইটের উপর বেঞ্চ পেতে খদ্দেরকে বসতে হয়।) এরকম চুলের ছাঁট নিয়ে যখন আমরা গরমের কিম্বা পুজোর ছুটির শেষে স্কুলে যেতাম তখন যে কতবার আমাদের বন্ধুরা আর টিচাররা আমাদের সম্প্রতি পৈতে হয়েছে ভেবে ভুল করেছে তার ইয়ত্তা নেই। যখন আমাদের সত্যি সত্যি পৈতে হয়েছিল তখন আমি সবে ক্লাস সেভেনে উঠেছি আর দাদা ক্লাস টেনে। আমার আর দাদার এক সাথে পৈতে দেওয়ার পেছনে কারণটা খুব সাধারণ -- কস্ট কাটিং (cost cutting)।
পাঠকদের মধ্যে অনেকের হয়তো ধারণা কস্ট কাটিং জিনিসটা বোধহয় হালফিলের আবিষ্কার। মোটেই তা নয় -- কস্ট কাটিং যুগ যুগ ধরে হয়ে আসছে। আমার আন্দাজ অনুযায়ী এই বস্তুটির প্রণেতা ত্রেতা যুগের রাজা দশরথ। বিশ্বাস না হলে রামায়ণ খুলে দেখুন, উনি নিজের চার ছেলের বিয়ে একসাথে দিয়েছিলেন। রাজা-রাজড়ার ব্যাপার -- বিয়ে মানেই এলাহী খরচা -- তাই চারবারের খরচাটা উনি একবারেই সেরে ফেলেছিলেন। এর চেয়েও পুরনো কোনো কস্ট কাটিংয়ের ঘটনা আপনাদের জানা আছে নাকি?

No comments: