Wednesday, May 6, 2015

আচ্ছা, বলুন তো, কোন প্রাণীকে শৈশবে দেখলে ভয়, যৌবনে দেখলে রাগ আর পুজোর সময় দেখলে মায়া হয় ?
পারলেন না তো ? উত্তরটা হলো "পুলিশ"।
বহুদিন আগে কোনো এক সংবাদ পত্রে পড়া এই প্রশ্নোত্তরটা হঠাৎ করে মনে পড়ে গেলো তারাপদ রায়ের "পুলিশ" নিয়ে একটি রম্যরচনা পড়ে।
রচনাটির শুরুতেই বলা আছে: "মাছের মধ্যে ইলিশ, আর মানুষের মধ্যে পুলিশ।" স্বাভাবিক ভাবেই এরপর মৎস সমাজে ইলিশ আর মনুষ্য সমাজে পুলিশের কি মিল তা জানতে আমি আগ্রহী হয়ে পড়ি কিন্তু তা নিয়ে বিন্দুমাত্র আলোকপাত না করে লেখক ইলিশের প্রাচীনত্ব ও পুলিশের আধুনিকত্ব নিয়ে বিচার করতে বসে পড়েন। ইলিশ যেখানে বহু সহস্রাব্দী ধরে বাঙালির পাতে বিরাজ করছে সেখানে পুলিশ মাত্র আড়াইশো বছর আগে ইংরেজদের মারফৎ আমদানি করা জিনিস। এই জিনিসটির কাজ হলো দেশের আইন রক্ষা করা।
এই সম্পর্কে কিছু দিন আগে আনন্দবাজার পত্রিকার এক সম্পাদকীয়তে পড়েছিলাম: "মনে রাখিতে হইবে, কোনও সভ্য দেশেই কিন্তু নিছক সংখ্যার জোরে পুলিশের পক্ষে আইনের শাসন বজায় রাখা সম্ভব নয়। জনসংখ্যার অনুপাতে পুলিশের সংখ্যা সর্বত্র সামান্য। পুলিশের জোর জনমানসে তাহার ভাবমূর্তিতে। সম্ভ্রমই পুলিশের জোর, প্রশাসনের চাবিকাঠি।" বোধ করি আর সমস্ত সামগ্রীর ন্যায় পুলিশের দামও সময়ের সাথে হ্রাস হয়েছে। এখন যেখানে কথায় কথায় পুলিশকে চড়িয়ে দেওয়া বা হেনস্থা করা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক কার্যে রূপান্তরিত হয়েছে সেখানে আগেকার দিনে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের সম্ভ্রম কিরকম ছিলো, সেটা নিম্নলিখিত গল্পটিতে প্রকাশ পায়। (মূল কাহিনীটা আজ আর আমার মনে নেই; যদ্দূর সম্ভব শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের বা দুলেন্দ্র ভৌমিকের লেখা কোনো উপন্যাস, শারদীয়া আনন্দমেলায়  বেরিয়েছিল।)
স্বাধীনতার পূর্বের ঘটনা। এক বিপ্লবী গাছতলায় দাঁড়িয়ে ইংরেজদের বিরুদ্ধে রগরগে ভাষণ দিচ্ছে। তাকে ঘিরে প্রচুর মানুষের জমায়েত। শ্রোতাদের রক্ত টগবগ করে ফুটছে। এমন সময় সেখানে এক বয়স্ক লিকলিকে চেহারার কনস্টেবলের দু'হাতে বাজারের থলি হাতে আবির্ভাব ঘটে। ব্যস, নিমেষের ভেতর সমস্ত শ্রোতা হাওয়া। ফাঁকা গাছতলায় বসে সেই বিপ্লবী একটা বিড়ি ধরিয়ে স্বগতোক্তি করে: "ধুস, এ পোড়া দেশে বিপ্লব-টিপ্লব কিস্সু হবে না।"

আচ্ছা, আপনারা খেয়াল করে দেখেছেন কি পুলিশে চাকুরীরত পুরুষদের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তাদের সকলের একখানা মোটা গোঁফ আছে ?
মাসখানেক আগে এক বিয়ে বাড়িতে গিয়ে আমার এক বন্ধুর জামাইবাবুর সাথে পরিচয়  হয়। তিনি কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট অথচ তার গোঁফ নেই। তাঁকে দেখে আমার সন্দেহ হলো আমার এতোদিনের বিশ্বাস কি তবে ভুল ? পরে জানতে পারি উনিও নাকি এমনিতে গোঁফ রাখেন, কিন্তু বাড়িতে বিয়ে জাতীয় সামাজিক অনুষ্ঠানের আগে গোঁফটা কামিয়ে নেন। ওনার এই স্বভাবটি শুনে অবাক হচ্ছেন ? আমিও হয়েছিলাম, পরে অবশ্য ওনার এই স্বভাবের একটা কারণ খুঁজে পেয়েছি সেই লেখক যার গল্পের সূত্র ধরে এতো কথার সূচনা, অর্থাৎ তারাপদ রায়ের গল্পে।

দরজায় কড়া নাঁড়া শুনে এক বাবা তার মেয়েকে কে এসেছে দেখতে বাইরে পাঠায়। মেয়েটি ফিরে এসে বাবাকে বলে: "বাইরে এক ভদ্রলোক আর একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে আছেন।"


পুনশ্চ: আপনাদের কারুর জানা আছে কি ছোটবেলায় ছোঁয়া ছুঁয়ি কিম্বা কুমির-ডাঙা খেলার সময় খেলার নিয়ম থেকে সাময়িক বিরতি পাবার জন্যে যে শব্দটা বলতে হতো -- "আপ্পুলিশ" -- সেটার উৎপত্তি কি "পুলিশ" শব্দটার থেকে ?

No comments: