Thursday, May 7, 2015

র‌্যাগিং: পর্ব ৩

র‌্যাগিং নিঃসন্দেহে একটি স্পর্শকাতর বিষয় যাকে নিয়ে রম্যরচনা লেখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। র‌্যাগিং হচ্ছে জুনিয়রদের সর্বনাশ এবং সিনিয়রদের পৌষমাস উপভোগ করার একটি মাধ্যম। তবুও সাহস করে এই বিষয়ে প্রায় এক বছর পর আরেক কিস্তি লিখতে বসেছি। আশা করি, আগেকার মতো এবারও আমার লেখা আপনারা হালকা মেজাজেই নেবেন; পাঠককে শুধুমাত্র আনন্দ দেওয়াই এ লেখার উদ্দেশ্য, কোনো ভাবেই র‌্যাগিংকে প্রশ্রয় দেওয়া নয়।

এবারের মূল বিষয় হচ্ছে আনুষ্ঠানিক ভাবে সিনিয়রদের দ্বারা জুনিয়রদের র‌্যাগিং থেকে মুক্তি প্রদান। অন্যান্য অনেক কলেজের মতো আমাদের কলেজেও যেমনি নিয়ম ছিলো "Freshers' Welcome" অনুষ্ঠানটির পর আর কোনো সিনিয়র কোনো জুনিয়রকে র‌্যাগিং করবে না। এর পরেও যদি কোনো সিনিয়রকে কোনো জুনিয়রের উপর অন্যায় নির্যাতন করতে দেখা যেতো তাহলে কলেজের স্টুডেন্ট ইউনিয়নের তরফ থেকেই সেই সিনিয়রের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতো। সব কলেজে অবশ্য এরকম কোনো নির্দিষ্ট দিন থেকে র‌্যাগিং বন্ধ করার প্রথা থাকে না। একটি কলেজে যেমনি নিয়ম আছে কোনো সিনিয়র কোনো জুনিয়রকে র‌্যাগিং করলে পর, তাকে জুনিয়রটির খাতায় কিছু নম্বর দিয়ে সই করে দিতে হবে। এই ভাবে কোনো জুনিয়রের যদি একশো নম্বর আয় হয়ে যায় তাহলে তার তত্ক্ষণাৎ র‌্যাগিং-এর হাত থেকে মুক্তি। শুনেছি এই কলেজে নাকি কিছু কিছু জুনিয়ররা তাড়াতাড়ি র‌্যাগিং থেকে খালাস পাওয়ার জন্যে সিনিয়রদের কাছে গিয়ে নিজেরাই বলে: "Rag me"।

আবার মূল বিষয়ে ফিরে আসা যাক, অর্থাৎ সেই সব কলেজের কথায় আসা যাক যেখানকার ঐতিহ্য হচ্ছে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে র‌্যাগিং-এর অবসান ঘটানো। উত্তর বঙ্গের একটি বেসরকারী ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে যেমনি প্রথম বর্ষের শেষে ছাত্ররা একটা সারিতে মিছিল করে গিয়ে শহরের একটি বিশেষ পানা পুকুরে ডুব দিয়ে উঠে নিজেদের পাপস্খালন করে। অন্যদিকে হাওড়ার একটি সরকারী কলেজে এই সমাপ্তি অনুষ্ঠানটি হচ্ছে একটি জুনিয়র বনাম সিনিয়র ফুটবল ম্যাচ। আপাতদৃষ্টিতে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্প্রীতিপূর্ণ মনে হলেও এই খেলার একমাত্র ব্যতিক্রমী নিয়মটি হলো খেলা চলাকালীন যদি কোনো জুনিয়রের পা সিনিয়রের গায়ে লেগে যায় তাহলে তাকে অবিলম্বে মাঠের মধ্যে সিনিয়রটির পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে হবে।

No comments: