Saturday, October 3, 2015

ইন্টেলে আইআইটি খড়্গপুরের আমার দুই সিনিয়র আছে -- একজনের ডাকনাম ডিডি অপরজনের পিডি। দুজনে আবার ইন্টেলের একই বিল্ডিং-এ একই ফ্লোরে কাজ করে। যারা জানেন না তাদের জন্যে বলে রাখি বেঙ্গালুরুতে ইন্টেলের মোট পাঁচটি বহুতল অফিস আছে, কাজেই আমার এই দুই সিনিয়রের সহাবস্থান খানিকটা অকস্মাৎ তো বটেই। খুঁজলে পরে তাদের মধ্যে নিশ্চয়ই আরো বেশি মিল পাওয়া যাবে তবে এই লেখা তাদের মিল নিয়ে নয় বরং গরমিল নিয়ে। এবং গরমিলের এই বিষয়টি হলো "কুকুর"।
তাহলে এবার খোলসা করে বলি। আইআইটি খড়্গপুরে আমার আর ডিডিদার ওভারল্যাপ ছিল এক সেমিস্টারের। আমরা একই ল্যাবে বসতাম। একদিন রাতে ল্যাবে শুধু আমি আর ডিডিদা রয়েছি। এমন সময় ডিডিদা আমার কিউবিকেলে এসে বলে গেল আমি যেন ল্যাব থেকে বেরোনোর সময় ডিডিদাকে ডেকে নিয়ে যাই। নির্দেশমতো আমি কাজ শেষে ডিডিদার কিউবিকেলে গিয়ে তাকে ডাকি, তারপর আমরা একসাথে সাইকেল চালিয়ে নিজেদের হোস্টেলে ফিরে আসি। আপাতদৃষ্টিতে পুরো ঘটনাটার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়ে না। তবে আমি পরে লক্ষ্য করি যেদিন রাতে শুধু আমি আর ডিডিদা শেষ পর্যন্ত ল্যাবে থাকি সেই দিনগুলোতে ডিডিদা আমাকে প্রত্যেকবার হোস্টেলে ফেরার সময় তাকে ডেকে নিয়ে যেতে বলে। এই ঘটনার বেশ কয়েকবার পুনরাবৃত্তি হওয়ার পর আমি ল্যাবের বাকিদেরকে ব্যাপারটা জানাই এবং জানতে পারি ডিডিদার নাকি মারাত্মক কুকুরের ভয়। আমাদের ল্যাব থেকে হোস্টেলে ফেরার পথে আবার কিছু কুকুর নাকি সজাগ থাকে যারা যখনই কেও একা সাইকেলে করে সেই রাস্তা দিয়ে যায় তখনই তাকে তাড়া করে। কখনও কেউ সেই রাস্তায় কুকুরের কামড় খেয়েছে বলে শোনা না গেলেও এক পাল কুকুর যদি ধাওয়া করে তাহলে বিষয়টা ভীতিপ্রদ বইকি।
তো এরকমই একবার নাকি সেই কুকুরের দল পিডিদাকে একা সাইকেলে করে ফিরতে দেখে তার পিছু নিয়েছিল। জনশ্রুতি আছে পিডিদা নাকি তখন সাইকেল থেকে নেমে, সাইকেলটাকে মাথার উপর তুলে নিজেই সেই কুকুরের পালকে বহুদূর তাড়া করে নিয়ে গেছিল। কি, পিডিদার এহেন আচরণ বিশ্বাস হচ্ছে না? আমার কিন্তু খুব বিশ্বাস হয়। পিডিদা একবার নিজের শক্তির পরিচয় দিতে গিয়ে দেওয়ালে ঘুসি মেরে নিজের হাত ভেঙ্গে ফেলেছিল -- একথা আমি বহু লোকের মুখে শুনেছি। পিডিদার আরো কতো কান্ডকারখানা আছে, সেসব বিস্তারিত ভাবে পরে বলা যাবে'খন। এক কথায় পিডিদা আইআইটি খড়্গপুরের "লেজেন্ড"।
যাই হোক, পড়লেন তো আমার দুই সিনিয়রের কথা, সোমবার অফিসে গিয়ে এরা না আমায় আবার তাড়া করে বেড়ায়। দুগ্গা দুগ্গা !

No comments: