মিশন: পর্ব ৫
এবারের গল্প "ভন্ড"-দা কে ঘিরে। এহেন নামকরণের ইতিহাস আমার জানা নেই তবে ভন্ডদা যে সর্বত্র "ভন্ড" নামেই পরিচিত ছিল এটা বেশ মনে আছে। এই কারণে ভন্ডদার আসল নামটা যে কি সেটা আজ আর শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না।
আমি যে বছর মিশনে ক্লাস ইলেভেনে ভর্তি হই, সে বছর ভন্ডদাও মিশনে কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে ঢোকে। আমাদের দুজনেরই গৌরাঙ্গ ভবনে থাকার ব্যবস্থা হয়। যারা জানেন না তাদের বলে রাখি মিশনে hall কে ভবন বলাটাই রীতি।
কিছুদিনের মধ্যেই ভন্ডদা আমাদের ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজকে ম্যানেজ করে পাকাপাকি ভাবে ভবনের খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠে। এক্ষণে এই "খাবার পরিবেশনকারী" ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা উচিৎ। আমাদের ভবনে প্রত্যেক সপ্তাহে দুটো করে রুমের অর্থাৎ মোট আটজন করে ছাত্রের উপর বাকি সমস্ত ছাত্রকে খাবার পরিবেশন করার দায়িত্ব পড়তো। কাজটা যদিও খানিক পরিশ্রমের তবুও আমরা সবাই এই দায়িত্ব পালন করার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকতাম কারণ পরিবেশন শেষে যেখানে অন্যান্য ছাত্ররা এক পিশ করে মাছ পেত সেখানে পরিবেশনকারীরা পেত দুপিশ মাছ তাছাড়া যেদিন ধরুন পায়েস হয়েছে সেদিন পরমান্নের অংশ জুটতো সাধারণের জন্যে বরাদ্দ অংশের চেয়ে সামান্য বেশি -- সেটাই ছিল আমাদের কাছে বিশাল বড় পাওনা।
তো, এই ভন্ডদা পাকাপাকি ভাবে খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠায় সে অনেকের কাছেই ঈর্ষার পাত্র হয়ে ওঠে। এর ফলে যেদিন ভন্ডদা সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজের অনুগ্রহ থেকে পতিত হয় সেদিনটা আমাদের ভবনের অনেকের কাছেই ছিল সেলিব্রেশনের দিন। আর ঘটনাটা ঘটেও ছিল এক শুভ লগ্নে: ভগবান গৌরাঙ্গের পুণ্য জন্মতিথিতে।
সেদিন ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি উপলক্ষে সকাল থেকেই আমাদের ভবনে বিশেষ তোড়জোড় চলছে। দিন শেষে ভবনের কমন রুমে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তৃতা, আলোচনা, গৌরাঙ্গের জীবনীপাঠ, ইত্যাদির শেষে ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজ ঘোষণা করলেন যে ভবনের কোনো ছাত্র যদি এই শুভ লগ্নে কোনো আবৃত্তি বা গান গাইতে চায় তাহলে সে নিঃসংকোচে মঞ্চে উঠে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। ভন্ডদা সর্বাগ্রে জানায় যে মহারাজ অনুমতি দিলে সে একটি লোকগীতি পরিবেশন করতে রাজী আছে। অতি উত্তম প্রস্তাব, মানা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ভন্ডদা মঞ্চে উঠে গলা পরিষ্কার করে একটি অতি পরিচিত লোকগীতি গাইতে শুরু করে: "দাদা তোর্ পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে।"
যদি কেও গানটি না জেনে থাকেন, তার জন্যে গানটি নিচে দেওয়া হোলো: (সুত্র: http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28781936)
দাদা পায়ে পড়ি রে
মেলা থেকে বউ এনে দে
নয়ত কলসি দড়ি দে রে
ডুবে মরি রে
তুই দাদা বউকে নিয়ে
সুখে করিস ঘর
আর আমি বউ চাইলে কেন
গালে মারিস চড়
দাদা চাস না কি বউকে নিয়ে
খেলা করি রে
তাড়াতাড়ি যা রে দাদা
মিনতি তোর কাছে
নয়ত সব বউ কিনে নেবে
পয়সা যাদের আছে
দাদা পায়ে পড়িরে
এই গানটা পুরোটা অবশ্য ভন্ডদা গেয়ে উঠতে পারেনি। গানটির প্রথম স্তবক শুনেই ব্রহ্মচর্যে ব্রতী মহারাজের মুখ রক্তিম হয়ে ওঠে। "ডেঁপো ছেলে"-কে তক্ষুনি নিচে নেমে আসতে তিনি হুকুম করেন এবং তীব্র ভর্ত্সনার সঙ্গে উপহার দেন একটি পেল্লাই কানমলা।
সে বছর ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি অনুষ্ঠানের এখানেই সমাপ্তি, ভবনের অন্যান্য ছাত্রদের সেলিব্র্শনের শুরু।
(বিঃদ্রঃ কিছু কিছু অংশে গল্পের গরু হয়তো একেবারে মগডালে উঠে গেছে তবে সেটা নিছক পাঠকদের আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।)
এবারের গল্প "ভন্ড"-দা কে ঘিরে। এহেন নামকরণের ইতিহাস আমার জানা নেই তবে ভন্ডদা যে সর্বত্র "ভন্ড" নামেই পরিচিত ছিল এটা বেশ মনে আছে। এই কারণে ভন্ডদার আসল নামটা যে কি সেটা আজ আর শত চেষ্টা করেও মনে করতে পারছি না।
আমি যে বছর মিশনে ক্লাস ইলেভেনে ভর্তি হই, সে বছর ভন্ডদাও মিশনে কলেজের ফার্স্ট ইয়ারে ঢোকে। আমাদের দুজনেরই গৌরাঙ্গ ভবনে থাকার ব্যবস্থা হয়। যারা জানেন না তাদের বলে রাখি মিশনে hall কে ভবন বলাটাই রীতি।
কিছুদিনের মধ্যেই ভন্ডদা আমাদের ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজকে ম্যানেজ করে পাকাপাকি ভাবে ভবনের খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠে। এক্ষণে এই "খাবার পরিবেশনকারী" ব্যাপারটা একটু খোলসা করে বলা উচিৎ। আমাদের ভবনে প্রত্যেক সপ্তাহে দুটো করে রুমের অর্থাৎ মোট আটজন করে ছাত্রের উপর বাকি সমস্ত ছাত্রকে খাবার পরিবেশন করার দায়িত্ব পড়তো। কাজটা যদিও খানিক পরিশ্রমের তবুও আমরা সবাই এই দায়িত্ব পালন করার জন্যে উন্মুখ হয়ে থাকতাম কারণ পরিবেশন শেষে যেখানে অন্যান্য ছাত্ররা এক পিশ করে মাছ পেত সেখানে পরিবেশনকারীরা পেত দুপিশ মাছ তাছাড়া যেদিন ধরুন পায়েস হয়েছে সেদিন পরমান্নের অংশ জুটতো সাধারণের জন্যে বরাদ্দ অংশের চেয়ে সামান্য বেশি -- সেটাই ছিল আমাদের কাছে বিশাল বড় পাওনা।
তো, এই ভন্ডদা পাকাপাকি ভাবে খাদ্য পরিবেশনকারী হয়ে ওঠায় সে অনেকের কাছেই ঈর্ষার পাত্র হয়ে ওঠে। এর ফলে যেদিন ভন্ডদা সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজের অনুগ্রহ থেকে পতিত হয় সেদিনটা আমাদের ভবনের অনেকের কাছেই ছিল সেলিব্রেশনের দিন। আর ঘটনাটা ঘটেও ছিল এক শুভ লগ্নে: ভগবান গৌরাঙ্গের পুণ্য জন্মতিথিতে।
সেদিন ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি উপলক্ষে সকাল থেকেই আমাদের ভবনে বিশেষ তোড়জোড় চলছে। দিন শেষে ভবনের কমন রুমে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। বক্তৃতা, আলোচনা, গৌরাঙ্গের জীবনীপাঠ, ইত্যাদির শেষে ভবনের সুপারিনটেনডেন্ট মহারাজ ঘোষণা করলেন যে ভবনের কোনো ছাত্র যদি এই শুভ লগ্নে কোনো আবৃত্তি বা গান গাইতে চায় তাহলে সে নিঃসংকোচে মঞ্চে উঠে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতে পারে। ভন্ডদা সর্বাগ্রে জানায় যে মহারাজ অনুমতি দিলে সে একটি লোকগীতি পরিবেশন করতে রাজী আছে। অতি উত্তম প্রস্তাব, মানা করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
ভন্ডদা মঞ্চে উঠে গলা পরিষ্কার করে একটি অতি পরিচিত লোকগীতি গাইতে শুরু করে: "দাদা তোর্ পায়ে পড়ি রে, মেলা থেকে বউ এনে দে।"
যদি কেও গানটি না জেনে থাকেন, তার জন্যে গানটি নিচে দেওয়া হোলো: (সুত্র: http://www.somewhereinblog.net/blog/rontychowdhuryblog/28781936)
দাদা পায়ে পড়ি রে
মেলা থেকে বউ এনে দে
নয়ত কলসি দড়ি দে রে
ডুবে মরি রে
তুই দাদা বউকে নিয়ে
সুখে করিস ঘর
আর আমি বউ চাইলে কেন
গালে মারিস চড়
দাদা চাস না কি বউকে নিয়ে
খেলা করি রে
তাড়াতাড়ি যা রে দাদা
মিনতি তোর কাছে
নয়ত সব বউ কিনে নেবে
পয়সা যাদের আছে
দাদা পায়ে পড়িরে
এই গানটা পুরোটা অবশ্য ভন্ডদা গেয়ে উঠতে পারেনি। গানটির প্রথম স্তবক শুনেই ব্রহ্মচর্যে ব্রতী মহারাজের মুখ রক্তিম হয়ে ওঠে। "ডেঁপো ছেলে"-কে তক্ষুনি নিচে নেমে আসতে তিনি হুকুম করেন এবং তীব্র ভর্ত্সনার সঙ্গে উপহার দেন একটি পেল্লাই কানমলা।
সে বছর ভগবান গৌরাঙ্গের জন্মতিথি অনুষ্ঠানের এখানেই সমাপ্তি, ভবনের অন্যান্য ছাত্রদের সেলিব্র্শনের শুরু।
(বিঃদ্রঃ কিছু কিছু অংশে গল্পের গরু হয়তো একেবারে মগডালে উঠে গেছে তবে সেটা নিছক পাঠকদের আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্যে।)
No comments:
Post a Comment