Tuesday, October 27, 2015

রাস্তায় গুঁতোগুঁতি ঠেলাঠেলি কিচ্ছু নেই। স্বেচ্ছাসেবকদের লাঠি হাতে তদারকি, দাদাগিরি নেই। যানবাহন সমস্ত স্বাভাবিক গতিতে চলছে। এমনকি শব্দদূষণ বায়ুদুষণ পর্যন্ত অন্যান্য দিনের মতো। নাঃ, এবারে দুর্গাপুজোটা সেভাবে এনজয় করতে পারলাম না। তবু এবছরে বেঙ্গালুরুতে এক সিনিয়র, কিছু ব্যাচমেট, আকস্মিক ভাবে দেখা হয়ে যাওয়া এক (সস্ত্রীক) পুরনো বন্ধু ও তাদের কিছু বন্ধুদের সাথে সময় কাটিয়ে বেশ ভালো লাগলো। পুরনো রুমমেটের গাড়িতে পঞ্চাশ মাইল ঘুরে সাতটা ঠাকুর দেখা হলো। প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখার চেয়ে বাঙালিদের খাবারের স্টলের সামনে বেশি ভিঁড় করতে দেখে খানিক নস্টালজিক হয়ে পড়লুম। কোলকাতার তুলনায় গলাকাটা দাম হলেও নস্টালজিয়া কাটানোর জন্যে আমিও খাবারের দোকানে লাইন দিলাম। উলসুর লেকের ধারে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেলে দেখি আবার কোলকাতা বুক সেলার্স গিল্ডের তরফ থেকে একটা বাংলা বইয়ের স্টল দিয়েছে। আমি তো আর নিজেকে আটকে রাখতে না পেরে কয়েকখান বইও কিনে ফেললুম। আপাতত দিনগুলো বাংলা বই পড়ে দারুণ কাটছে।

এবার একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য জানাই -- সম্প্রতি "নির্বাচিত ত্রৈলোক্যনাথ" বইটি পড়ে জেনেছি। "যমালয়ে জীবন্ত মানুষ" সিনেমাটা নিশ্চয়ই সবাই দেখেছেন। এই সিনামাটির কাহিনীকার "প্রফুল্ল চক্রবর্তী" -- যিনি এই সিনেমাটির নির্দেশকও। তবে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের "নয়নচাঁদের ব্যবসা" গল্পটির সাথে এই সিনেমার গল্পের অদ্ভুত মিল আছে। এখানেও এক জীবন্ত বাঙালিকে যমদূতেরা যমালয়ে নিয়ে আসে, মালিকের নির্দেশে এক প্রকান্ড ষাঁড় যমরাজ ও চিত্রগুপ্তকে যমপুরী থেকে বিষ্ণুলোকে তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায় এবং আরো কিছু অতিশয় মিল আছে যা কাকতালীয় বলে মেনে নেওয়া কঠিন। কখনো এই গল্পটি হাতের কাছে পেলে অবশ্যই পড়ে দেখবেন।

No comments: