বাসের চাকার মতো ভাগ্যের চাকাও ঘুরে চলে। বন্ধু-বান্ধব,
আত্মীয়-স্বজন সকলের অপদস্থ হওয়ার ঘটনা এই পাবলিক ফোরামে বলেছি, এবার আমার
নিজের পালা। তাই আজ থেকে শুরু হলো:
লেখক: পর্ব ১
অন্যের দিকে আঙুল তুললে হাতের বাকি চারটে
আঙুল নিজের দিকে ইঙ্গিত করে। (নাকি তিনটে? বুড়ো আঙুলটা তো মাটির দিকে তাক
করে থাকে দেখেছি।) তাই বাকিদের বাকি রেখে নিজের ভীষণ লজ্জিত হওয়ার একটা
ঘটনা এখন বলছি। আমি "ভীষণ লজ্জিত" হয়েছিলাম মানেই বুঝতে পারছেন --
ব্যাপারটা ঘোরতর।লেখক: পর্ব ১
ঘোরতর হতেই হবে কেন?
আরে বাবা, আমার মতো প্রায় মান-সম্মান বোধহীন
একজন লোক লজ্জিত, থুড়ি ভীষণ লজ্জিত, বোধ করছে এটা ঘোরতর ব্যাপার নয়? আমার
যে মান-সম্মান বোধটা একটু কম তার উদাহরণস্বরূপ বর্তমান মুহূর্তটাই ধরুন,
আমার যদি অতই সম্মান বোধ থাকতো তাহলে কি এভাবে আপনাদের কাছে এই কাহিনীটা
তুলে ধরতাম? তবে হ্যাঁ, সম্মান বোধটা কম হলেও দু'কান কাটা তো আর নই। যাক,
এবার ঘটনা প্রসঙ্গে আসা যাক -- গৌরচন্দ্রিকাটা দেখছি বেশ বড়ই হয়ে গেলো।তখন আমি সবে আই.আই.টি.-তে ঢুকেছি। রোজ দেখতাম দুপুর বেলায় স্নান করতে যাবার সময় হোস্টেলের অন্যান্য বাসিন্দারা নিজেদের মধ্যে কি একটা চাপা গুঞ্জন করছে। মাঝে মাঝে খুক খুক করে হাসির আওয়াজও শুনতে পেতাম। এই আলোচনা, ঠাট্টার কেন্দ্রে যে আমি সেটা বেশ ভালো করেই বুঝতে পারতাম। কিন্তু দুপুরে আমি স্নান করতে যাওয়ার সময়েই কেন এই ঘটনা প্রতিদিন ঘটে তা কিছুতেই ঠাহর করতে পারতাম না। একদিন সাহস করে এক সিনিয়রকে কারণটা জিজ্ঞেস করলাম।
সিনিয়রটি হেসে উত্তর দিলো: "তুই আর কতোদিন ওই লোডশেডিং গামছাটা পরে চালাবি?"
আমি: "লোডশেডিং গামছা?"
সিনিয়র: "তোর ওই গামছাটা যা পাতলা, লোডশেডিং ছাড়া বাকি সময় তো ওটা দিয়ে লজ্জা নিবারণ হয় না।"
No comments:
Post a Comment