Monday, June 16, 2014

লেখক: পর্ব ২
'ইন্দ্রলুপ্তি' -- মানে সোজা বাংলায় 'টাক পড়া'। টাক পড়ার অভিজ্ঞতাটা পুরুষদের কাছে খানিকটা ভয়ের, খানিকটা লজ্জার আর সর্বোপরি হতাশার। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি। ইদানীং চুল আঁচড়াবার পর চিরুনির দিকে তাকানোর সাহস হয় না, পুরনো বন্ধুদের ছেড়ে চলে যেতে দেখলে কার না দুঃখ হয়। যে মুষ্টিমেয় পুরুষদের এই অনুভূতি গোটা জীবনে ভোগ করতে হয় না, তারা সত্যিই বাকিদের কাছে ঈর্ষণীয়। মনে পড়ে ছোটবেলায় একটা বিজ্ঞাপন দূরদর্শনে দেখতে পেতাম -- ডক্টর সরকারের 'আর্নিকা প্লাস ট্রায়োফার ট্রিপল অ্যাকশন হেয়ার ভাইটালাইজার' -- চুল পড়ার মহান প্রতিষেধক। কিন্তু সেই বিজ্ঞাপন আজ বহু বছর আর দেখতে পাইনা। ডক্টর সরকারের নিজেরই টাক পড়ে গেলো নাকি?
যাই হোক, মূল বক্তব্যে আসা যাক। টাকের প্রকারভেদ আছে -- সেগুলো আপনাদের জানা আছে কি? আমি শুনেছিলাম দাদার কাছে, দাদা শুনেছিল পুরুলিয়া রামকৃষ্ণ মিশনে পড়াকালীন এক মাস্টারমশাইয়ের কাছে, ওনার সোর্সটা কি তা অবশ্য বলতে পারবো না। টাক মূলত চার প্রকার:
(১) ছাদ খালি সিঁড়ি জ্যাম -- অর্থাৎ গোটা মাথায় চুল আছে, শুধু ব্রহ্মতালুর জায়গাটা ফাঁকা। এই 'ছাদের' প্রসস্তি কিন্তু দিনে দিনে বৃদ্ধি পায়।
(২) ওরা থাকে ওধারে -- এটা অসমান ভাবে চুল ওঠার ফল, ধরুন মাথার বাঁদিকটা খালি অথচ ডানদিকে যথেষ্ট চুল বাকি আছে। এই গোত্রের পুরুষেরা চুল আঁচড়াবার সময় ডানদিকের চুলগুলোকে টেনে এনে বাঁদিকটা ভরাট করার প্রতি বিশেষ যত্নবান হন।
(৩) স্মৃতিটুকু থাক -- নাম শুনে নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, মাথায় ছিঁটে ফোঁটা চুল বাকি থাকে যাদের।
(৪) অবাক পৃথিবী -- মানে যাদের মাথার তেল বা চিরুনির পেছনে খরচা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
গলযোদ্ধা অ্যাসটেরিক্স (Asterix the Gaul) পড়েছেন কি? তাতে রোমান ক্যাম্পে গিয়ে পুরোহিত এটাসেটামিক্স (Druid Getafix) দ্রুত হারে চুল গজানোর শক্তিসম্পন্ন জাদু পানীয় খাইয়ে রোমানদের কেমন নাকানি চোবানি খাইয়েছিল মনে পড়ে? আপাতত আমি সেই জাদু পানীয়ের খোঁজে রয়েছি।
পুনশ্চ:
অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য যোগ করলাম -- আমারটা প্রথম প্রকারের অন্তর্গত।

No comments: