লেখক: পর্ব ৩
ক্লাস ১১-১২ আমি পড়েছিলাম নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে। সে সময় নরেন্দ্রপুর থেকে বাড়ি এলে প্রায়শই এক শোচনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো কারণ মা আমার জামা থেকে সিগারেটের গন্ধ পেতেন। অথচ আমি মোটেও সিগারেট খেতাম না। (আমার এক রুমমেট খেত বটে, তবে ক্লাস ১১ থেকে ১২-এ ওঠার সময় সে সিগারেট খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো -- সে তখন সিগারেট ছেড়ে পাইপ ধরেছিলো। হয়তো সেই গন্ধই আমার জামায় লেগে থাকতো।) আমি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও মা সন্দিগ্ধ নজরে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, আমি সত্যি বলছি না মিথ্যে তার আঁচ পাওয়ার জন্যে বোধ হয়। তার সাথে ধূমপানের বিভিন্ন কুফল আর কতো কতো ভালো ছেলে নেশাচক্রে পড়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে সেই নিয়ে বিস্তর জ্ঞান তো ছিলই।
তখন বিরক্ত লাগলেও পরে ভেবে দেখেছি মায়ের দুশ্চিন্তা করাটা অহেতুক নয়। কারণ, ধূমপানের প্রথম অভিজ্ঞতাটা অন্যান্য সকলের চেয়ে আমার আগেই হয়েছে। আমি প্রথম (এবং সেই শেষ) বিড়ি খেয়েছিলাম ক্লাস টু-তে। আমাদের আবাসনের কেয়ার-টেকার কোনো কারণে নিজের বিড়ি জ্বলন্ত অবস্থাতেই নিজের ঘরে রেখে বেরিয়েছিল, সেই সুযোগে আমি তাতে দু-টান দিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে এসে নবলব্ধ অভিজ্ঞতার কথা বাবাকে জানিয়েও ছিলাম।
-- "বাবা, তুমি কখনো বিড়ি খেয়েছো?"
-- "হ্যাঁ, খেয়েছি।"
-- "খুব বাজে খেতে, বলো?"
-- "তুই কি করে জানলি?"
-- "আমিও খেয়েছি।"
ক্লাস ১১-১২ আমি পড়েছিলাম নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে। সে সময় নরেন্দ্রপুর থেকে বাড়ি এলে প্রায়শই এক শোচনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো কারণ মা আমার জামা থেকে সিগারেটের গন্ধ পেতেন। অথচ আমি মোটেও সিগারেট খেতাম না। (আমার এক রুমমেট খেত বটে, তবে ক্লাস ১১ থেকে ১২-এ ওঠার সময় সে সিগারেট খাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলো -- সে তখন সিগারেট ছেড়ে পাইপ ধরেছিলো। হয়তো সেই গন্ধই আমার জামায় লেগে থাকতো।) আমি নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করলেও মা সন্দিগ্ধ নজরে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, আমি সত্যি বলছি না মিথ্যে তার আঁচ পাওয়ার জন্যে বোধ হয়। তার সাথে ধূমপানের বিভিন্ন কুফল আর কতো কতো ভালো ছেলে নেশাচক্রে পড়ে নিজের সর্বনাশ ডেকে এনেছে সেই নিয়ে বিস্তর জ্ঞান তো ছিলই।
তখন বিরক্ত লাগলেও পরে ভেবে দেখেছি মায়ের দুশ্চিন্তা করাটা অহেতুক নয়। কারণ, ধূমপানের প্রথম অভিজ্ঞতাটা অন্যান্য সকলের চেয়ে আমার আগেই হয়েছে। আমি প্রথম (এবং সেই শেষ) বিড়ি খেয়েছিলাম ক্লাস টু-তে। আমাদের আবাসনের কেয়ার-টেকার কোনো কারণে নিজের বিড়ি জ্বলন্ত অবস্থাতেই নিজের ঘরে রেখে বেরিয়েছিল, সেই সুযোগে আমি তাতে দু-টান দিয়ে দিয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে এসে নবলব্ধ অভিজ্ঞতার কথা বাবাকে জানিয়েও ছিলাম।
-- "বাবা, তুমি কখনো বিড়ি খেয়েছো?"
-- "হ্যাঁ, খেয়েছি।"
-- "খুব বাজে খেতে, বলো?"
-- "তুই কি করে জানলি?"
-- "আমিও খেয়েছি।"
No comments:
Post a Comment