মিশন: পর্ব ৩
গবা মহারাজকে ঘিরে বিভিন্ন কীর্তিকলাপের সাক্ষী আছি আমি। আরো অনেক ঘটনা মিশনের ছাত্রদের মুখে মুখে প্রচলিত। তার মধ্যে কিছুর বাস্তবিকতা নিয়ে পাঠকদের মনে সন্দেহ জাগতে পারে; তা সত্তেও সেরকম কিছু নমুনা আমি এখানে সংকলিত করছি, অত্যুৎসাহী পাঠকরা নিজ উদ্যোগে এগুলির যথার্ততা যাচাই করে নেবেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার admit card বানানোর জন্যে কিছু ছাত্র গড়িয়া গেছিল ছবি তোলাতে। তারা মিশনে ফিরে এসে ভবনে (অর্থাৎ hall-এ) ঢোকার সময় গবা মহারাজের মুখোমুখি পড়ে যায়।
গবা মহারাজ: "কি ব্যাপার ? একসাথে কোথায় গেছিলে ?"
এক ছাত্র: "মহারাজ, admit card-এর জন্যে ছবি তোলাতে।"
গবা মহারাজ: "তা এতজন মিলে যাবার কি দরকার, একজন গিয়ে সবার ছবি তুলে আনা যায় না ?"
আমাদের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ -- এই সবের প্রচলন ছিল না, তাই ছাত্রদের ঘরে কোনো প্লাগ পয়েন্ট থাকতো না। এই পড়ে যদি কোনো পাঠকের অবাক লাগে তাহলে বলি আমার দাদা ক্লাস ৪ থেকে ১০ পুরুলিয়া মিশনে পড়াকালীন ছাত্রদের রুমে ফ্যান পর্যন্ত ছিল না। পুরুলিয়ার মতো গরমের জায়গায় ফ্যান ছাড়া থাকাটা কতোখানি উপভোগ্য সেটা একবার ভেবে দেখুন তো ! এখন অবশ্য এক প্রাক্তনীর টাকায় পুরুলিয়া মিশনে প্রত্যেক ঘরে ফ্যান লাগানো হয়েছে। পুরুলিয়া মিশনের কথা পরে আবার হবে'খন, আপাতত মূল কাহিনীতে ফেরা যাক। আমাদের মিশনে সেই সময় প্লাগ পয়েন্ট থাকতো ব্লাইন্ড ছেলেদের ঘরে। দুর্ভাগ্যবশত: ব্লাইন্ড ছেলেদের জন্যে ব্রেইল ভাষায় যথেষ্ঠ বই না থাকার দরুণ ওদের ক্যাসেটে পড়া রেকর্ড করে সেই শুনে পড়া মুখস্থ করতে হতো, তাই তাদের ঘরে প্লাগ পয়েন্টের ব্যবস্থা। কিছু ছাত্র এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্যে বাইরে থেকে VCP ভাড়া করে নিয়ে এসে তাতে হিন্দী সিনেমা দেখছিল। হঠাৎ রুমের কড়া নড়ে উঠলো, এক ছাত্র রুমের বাইরে এসে দেখে গবা মহারাজ দাঁড়িয়ে। এদিকে রুমের ভিতরে সিনেমা তখনো চলছে, পর্দায় হিরোইন একটা গান ধরেছে সবে।
গবা মহারাজ: "কি রে, তোরা এই রুমে কি করছিস ?"
ছাত্র: "মহারাজ, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝে মনকে সতেজ রাখার জন্যে ভজন শুনছি।"
গবা মহারাজ: "বাহ্, এ তো খুব ভালো কথা। তোরা চালিয়ে যা।"
এই বলে মহারাজ চলে গেলেন। প্রসঙ্গত এই ছাত্রটি আমাদের বেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম দশের মধ্যে স্থান অধিকার করেছিল।
কিছু কিছু ঘটনা প্রায় প্রত্যেক স্কুল কলেজেই থাকে যে ঘটনাটির কৃতিত্ব প্রত্যেক ব্যাচের ছেলেরাই দাবি করে যে তাদেরই কোনো এক সহপাঠীর। সেরকমই একটি ঘটনা হলো লোড শেডিং-এর সময় গবা মহারাজের মাথায় বালতি চাপা দিয়ে কোনো এক বিতশ্রদ্ধ ছাত্রের দু-চার ঘা বসিয়ে দেওয়া; শুরুতেই মাথায় বালতি চাপা দিয়ে দেওয়ার ফলে পরে গবা মহারাজ আর দোষী ছাত্রকে সনাক্ত করতে পারেননি, তাই ওনাকে ব্যাপারটা চুপচাপ হজম করে নিতে হয়।
লোড শেডিং-এর কথায় মনে পড়লো, মিশনের ছাত্রদের একটি স্বভাব হলো লোড শেডিং হলে পরেই চেঁচিয়ে ওঠা "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই প্রসঙ্গে একটা গল্প (ঘটনা) শুনেছিলাম:
একবার বিদেশের একটি প্রেক্ষাগৃহে একটি নাটক চলছে, এমন সময় সেখানে লোড শেডিং। সেই অন্ধকারের মধ্যে কে একজন চেঁচিয়ে উঠলো: "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই শুনে পেছন থেকে আরেকজন কে চেঁচিয়ে উঠলো: "আমি সেভেনটি ফোরের ব্যাচ, তুমি কোন ইয়ারের ?"
গবা মহারাজকে ঘিরে বিভিন্ন কীর্তিকলাপের সাক্ষী আছি আমি। আরো অনেক ঘটনা মিশনের ছাত্রদের মুখে মুখে প্রচলিত। তার মধ্যে কিছুর বাস্তবিকতা নিয়ে পাঠকদের মনে সন্দেহ জাগতে পারে; তা সত্তেও সেরকম কিছু নমুনা আমি এখানে সংকলিত করছি, অত্যুৎসাহী পাঠকরা নিজ উদ্যোগে এগুলির যথার্ততা যাচাই করে নেবেন।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার admit card বানানোর জন্যে কিছু ছাত্র গড়িয়া গেছিল ছবি তোলাতে। তারা মিশনে ফিরে এসে ভবনে (অর্থাৎ hall-এ) ঢোকার সময় গবা মহারাজের মুখোমুখি পড়ে যায়।
গবা মহারাজ: "কি ব্যাপার ? একসাথে কোথায় গেছিলে ?"
এক ছাত্র: "মহারাজ, admit card-এর জন্যে ছবি তোলাতে।"
গবা মহারাজ: "তা এতজন মিলে যাবার কি দরকার, একজন গিয়ে সবার ছবি তুলে আনা যায় না ?"
আমাদের সময় মোবাইল, ল্যাপটপ -- এই সবের প্রচলন ছিল না, তাই ছাত্রদের ঘরে কোনো প্লাগ পয়েন্ট থাকতো না। এই পড়ে যদি কোনো পাঠকের অবাক লাগে তাহলে বলি আমার দাদা ক্লাস ৪ থেকে ১০ পুরুলিয়া মিশনে পড়াকালীন ছাত্রদের রুমে ফ্যান পর্যন্ত ছিল না। পুরুলিয়ার মতো গরমের জায়গায় ফ্যান ছাড়া থাকাটা কতোখানি উপভোগ্য সেটা একবার ভেবে দেখুন তো ! এখন অবশ্য এক প্রাক্তনীর টাকায় পুরুলিয়া মিশনে প্রত্যেক ঘরে ফ্যান লাগানো হয়েছে। পুরুলিয়া মিশনের কথা পরে আবার হবে'খন, আপাতত মূল কাহিনীতে ফেরা যাক। আমাদের মিশনে সেই সময় প্লাগ পয়েন্ট থাকতো ব্লাইন্ড ছেলেদের ঘরে। দুর্ভাগ্যবশত: ব্লাইন্ড ছেলেদের জন্যে ব্রেইল ভাষায় যথেষ্ঠ বই না থাকার দরুণ ওদের ক্যাসেটে পড়া রেকর্ড করে সেই শুনে পড়া মুখস্থ করতে হতো, তাই তাদের ঘরে প্লাগ পয়েন্টের ব্যবস্থা। কিছু ছাত্র এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করার জন্যে বাইরে থেকে VCP ভাড়া করে নিয়ে এসে তাতে হিন্দী সিনেমা দেখছিল। হঠাৎ রুমের কড়া নড়ে উঠলো, এক ছাত্র রুমের বাইরে এসে দেখে গবা মহারাজ দাঁড়িয়ে। এদিকে রুমের ভিতরে সিনেমা তখনো চলছে, পর্দায় হিরোইন একটা গান ধরেছে সবে।
গবা মহারাজ: "কি রে, তোরা এই রুমে কি করছিস ?"
ছাত্র: "মহারাজ, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতির মাঝে মনকে সতেজ রাখার জন্যে ভজন শুনছি।"
গবা মহারাজ: "বাহ্, এ তো খুব ভালো কথা। তোরা চালিয়ে যা।"
এই বলে মহারাজ চলে গেলেন। প্রসঙ্গত এই ছাত্রটি আমাদের বেলায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে প্রথম দশের মধ্যে স্থান অধিকার করেছিল।
কিছু কিছু ঘটনা প্রায় প্রত্যেক স্কুল কলেজেই থাকে যে ঘটনাটির কৃতিত্ব প্রত্যেক ব্যাচের ছেলেরাই দাবি করে যে তাদেরই কোনো এক সহপাঠীর। সেরকমই একটি ঘটনা হলো লোড শেডিং-এর সময় গবা মহারাজের মাথায় বালতি চাপা দিয়ে কোনো এক বিতশ্রদ্ধ ছাত্রের দু-চার ঘা বসিয়ে দেওয়া; শুরুতেই মাথায় বালতি চাপা দিয়ে দেওয়ার ফলে পরে গবা মহারাজ আর দোষী ছাত্রকে সনাক্ত করতে পারেননি, তাই ওনাকে ব্যাপারটা চুপচাপ হজম করে নিতে হয়।
লোড শেডিং-এর কথায় মনে পড়লো, মিশনের ছাত্রদের একটি স্বভাব হলো লোড শেডিং হলে পরেই চেঁচিয়ে ওঠা "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই প্রসঙ্গে একটা গল্প (ঘটনা) শুনেছিলাম:
একবার বিদেশের একটি প্রেক্ষাগৃহে একটি নাটক চলছে, এমন সময় সেখানে লোড শেডিং। সেই অন্ধকারের মধ্যে কে একজন চেঁচিয়ে উঠলো: "এই গবা, আলো দিয়ে যা !" এই শুনে পেছন থেকে আরেকজন কে চেঁচিয়ে উঠলো: "আমি সেভেনটি ফোরের ব্যাচ, তুমি কোন ইয়ারের ?"
No comments:
Post a Comment