(এই কথাগুলো অনেকদিন ধরেই লিখবো ভাবছিলাম কিন্তু স্লো ইন্টারনেট কানেকশনের জন্যে লিখতে গিয়ে মাঝে মাঝে ধৈর্য হারিয়ে ফেলছিলাম, তাই একটু দেরি হয়ে গেল।)
কার্টুনিস্ট প্রাণ মারা গেছেন শুনে বড় দুঃখ পেলাম। ওনার সৃষ্ট চরিত্রগুলি -- চাচা চৌধুরী, সাবু, বিল্লু, পিঙ্কি, রমন, চান্নি চাচী -- আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এক সময় এরা ছিল আমার নিত্যকার সঙ্গী, এদের এক একটা বই আমি পাঁচ ছয়বার করে অন্তত পড়তাম। এদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল অবশ্যই চাচা চৌধুরী, যার মগজ কম্পিউটারের চেয়েও প্রখর। চাচা চৌধুরীর সব গল্পই, যাকে বলে, চেটেপুটে খেতাম; বিশেষ করে সেই সংখ্যাগুলো যেগুলোতে রাকা থাকতো -- পুরো বই জুড়ে টানটান উত্তেজনা অনুভব করতাম। অনেক বয়সেও আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এই সব কমিকস পড়েছি। সাহারা টিভি চ্যানেলে চাচা চৌধুরীকে নিয়ে একটা টিভি সিরিয়াল হতো, অভিনতাদের স্থির চিত্র জুড়ে জুড়ে সেই গল্পগুলোও কমিকসের আকারে পরে বেরিয়েছে; সেগুলিও আমি পড়ে দেখেছি তবে তাতে প্রাণের ছোঁয়া পাইনি। যাই হোক, এই সমস্ত ডায়মন্ড কমিকসের প্রতি আমার ভালবাসার একটা উদাহরণ দিই।
তখন বোধহয় আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। তখন আমরা থাকতাম কসবায় একটা ভাঁড়া বাড়িতে। কসবা থেকে বিজন সেতু পেরলেই গড়িয়াহাট আর গড়িয়াহাটের মোড়ে, ঠিক 'আনন্দমেলা' দোকানটার সামনে, একটা অস্থায়ী কমিকসের বইয়ের দোকান ছিল। সেখান থেকে আমি কতো যে কমিকস কিনেছি তার ইয়ত্তা নেই। সেখান দিয়ে পেরোবার সময় আমি সব সময়ই (আর দাদা কখনো কখনো) কমিকস কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরতাম। সব সময় তো আর বায়না পূরণ করা সম্ভব নয় (হয়তো উচিৎও নয়) তাই বাবা একবার কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না, এদিকে আমিও নাছোড়বান্দা। শেষপর্যন্ত বাবা বললেন যে উনি বই কিনে দিতে পারেন একটি শর্তে -- পরেরবার যখন সবাই মিলে ধোসা খেতে যাওয়া হবে তখন কিন্তু যাকে বই কিনে দেওয়া হবে সে কিছু খেতে পাবে না। সে সময় আমার আর দাদার কাছে ধোসা খাদ্যবস্তুটা ছিল অমৃতসমান। দাদা ধোসা খেতে রাজি হলেও আমি বললাম যে আমি কমিকসই কিনবো, তার জন্যে এক বেলা ভুখা থাকতেও আমি রাজি। অগত্যা বাবা আমাকে একটা চাচা চৌধুরীর কমিকস কিনে দিলেন। বাড়ি এসে আমি বইটা পড়া শেষ করে তারপর থেকে বইটা সর্বদা বগলদাবা করে ঘুরতাম। যদ্দূর সম্ভব, বইটা বালিশের তলায় রেখে ঘুমোতামও। ভাবছেন আমি বুঝি এতোই ভালবাসতাম কমিকসের বইগুলিকে? আরে না না, আমি বইটা হাতছাড়া করছিলাম না পাছে দাদা বইটা পড়ে ফেলে -- এই ভয়ে; দাদা বইটাও পড়বে আবার ধোসাও খেতে পাবে, এটা আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। বইটা পড়ার জন্য দাদার শত অনুনয় বিনয়েও যখন আমার মন গললো না তখন বাবাকেই মধ্যস্থতা করার জন্য আমাকেও ধোসা খাওয়াবার প্রতিশ্রুতি দিতে হল। অবশেষে দাদাকে আমি বইটা পড়তে দিই।
পুনশ্চ: আচ্ছা, রাকা তো সেই চক্রম আচার্যের ওষুধ খেয়ে অমর হয়ে গেছিল। শেষ পর্যন্ত রাকার কি হাল হয়েছিল আপনারা জানেন কি? আমার তো জানতে ভীষণ কৌতূহল হচ্ছে।
কার্টুনিস্ট প্রাণ মারা গেছেন শুনে বড় দুঃখ পেলাম। ওনার সৃষ্ট চরিত্রগুলি -- চাচা চৌধুরী, সাবু, বিল্লু, পিঙ্কি, রমন, চান্নি চাচী -- আজও আমার স্মৃতিতে উজ্জ্বল। এক সময় এরা ছিল আমার নিত্যকার সঙ্গী, এদের এক একটা বই আমি পাঁচ ছয়বার করে অন্তত পড়তাম। এদের মধ্যে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র ছিল অবশ্যই চাচা চৌধুরী, যার মগজ কম্পিউটারের চেয়েও প্রখর। চাচা চৌধুরীর সব গল্পই, যাকে বলে, চেটেপুটে খেতাম; বিশেষ করে সেই সংখ্যাগুলো যেগুলোতে রাকা থাকতো -- পুরো বই জুড়ে টানটান উত্তেজনা অনুভব করতাম। অনেক বয়সেও আমি লুকিয়ে লুকিয়ে এই সব কমিকস পড়েছি। সাহারা টিভি চ্যানেলে চাচা চৌধুরীকে নিয়ে একটা টিভি সিরিয়াল হতো, অভিনতাদের স্থির চিত্র জুড়ে জুড়ে সেই গল্পগুলোও কমিকসের আকারে পরে বেরিয়েছে; সেগুলিও আমি পড়ে দেখেছি তবে তাতে প্রাণের ছোঁয়া পাইনি। যাই হোক, এই সমস্ত ডায়মন্ড কমিকসের প্রতি আমার ভালবাসার একটা উদাহরণ দিই।
তখন বোধহয় আমি ক্লাস ওয়ানে পড়ি। তখন আমরা থাকতাম কসবায় একটা ভাঁড়া বাড়িতে। কসবা থেকে বিজন সেতু পেরলেই গড়িয়াহাট আর গড়িয়াহাটের মোড়ে, ঠিক 'আনন্দমেলা' দোকানটার সামনে, একটা অস্থায়ী কমিকসের বইয়ের দোকান ছিল। সেখান থেকে আমি কতো যে কমিকস কিনেছি তার ইয়ত্তা নেই। সেখান দিয়ে পেরোবার সময় আমি সব সময়ই (আর দাদা কখনো কখনো) কমিকস কিনে দেওয়ার জন্য বায়না ধরতাম। সব সময় তো আর বায়না পূরণ করা সম্ভব নয় (হয়তো উচিৎও নয়) তাই বাবা একবার কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না, এদিকে আমিও নাছোড়বান্দা। শেষপর্যন্ত বাবা বললেন যে উনি বই কিনে দিতে পারেন একটি শর্তে -- পরেরবার যখন সবাই মিলে ধোসা খেতে যাওয়া হবে তখন কিন্তু যাকে বই কিনে দেওয়া হবে সে কিছু খেতে পাবে না। সে সময় আমার আর দাদার কাছে ধোসা খাদ্যবস্তুটা ছিল অমৃতসমান। দাদা ধোসা খেতে রাজি হলেও আমি বললাম যে আমি কমিকসই কিনবো, তার জন্যে এক বেলা ভুখা থাকতেও আমি রাজি। অগত্যা বাবা আমাকে একটা চাচা চৌধুরীর কমিকস কিনে দিলেন। বাড়ি এসে আমি বইটা পড়া শেষ করে তারপর থেকে বইটা সর্বদা বগলদাবা করে ঘুরতাম। যদ্দূর সম্ভব, বইটা বালিশের তলায় রেখে ঘুমোতামও। ভাবছেন আমি বুঝি এতোই ভালবাসতাম কমিকসের বইগুলিকে? আরে না না, আমি বইটা হাতছাড়া করছিলাম না পাছে দাদা বইটা পড়ে ফেলে -- এই ভয়ে; দাদা বইটাও পড়বে আবার ধোসাও খেতে পাবে, এটা আমি কিছুতেই সহ্য করতে পারছিলাম না। বইটা পড়ার জন্য দাদার শত অনুনয় বিনয়েও যখন আমার মন গললো না তখন বাবাকেই মধ্যস্থতা করার জন্য আমাকেও ধোসা খাওয়াবার প্রতিশ্রুতি দিতে হল। অবশেষে দাদাকে আমি বইটা পড়তে দিই।
পুনশ্চ: আচ্ছা, রাকা তো সেই চক্রম আচার্যের ওষুধ খেয়ে অমর হয়ে গেছিল। শেষ পর্যন্ত রাকার কি হাল হয়েছিল আপনারা জানেন কি? আমার তো জানতে ভীষণ কৌতূহল হচ্ছে।
No comments:
Post a Comment