Monday, August 25, 2014

"Forgive and forget." "দয়াই পরম ধর্ম।"
এধরণের কথা আমরা প্রায়শই বলে থাকি। তবে কিনা শুধুমাত্র বলেই থাকি, এই কথাগুলোর যথার্ততার প্রমাণ দেওয়ার সময় তখন আমাদের অন্য রূপ; ছোটখাটো দোষও আমাদের মনে হয় ক্ষমার অযোগ্য, অতি অল্প কারণেই আমরা হয়ে উঠি প্রতিহিংসাপরায়ণ। আমার নিজের জীবনের একটি ছোট ঘটনাই তার পরিচায়ক।

লেখক: পর্ব ৪

ছোট বেসরকারী বাসে চেপেছেন নিশ্চয়ই -- মানে আমি সেই বাসগুলোর কথা বলছি যেগুলোর সিটের পরিসর খুবই কম। দু'জনের সিটে আদতে দেড়জন বসতে পারে, যদি না দু'টো বাচ্চা কিম্বা একেবারে তালপাতার সেপাইয়ের মতো ফিগারের দু'জন পাশাপাশি বসে। নতুবা ডানদিকের সিটের ধারে বসে থাকা যাত্রীর বাঁ পা আর অপরদিকে বাঁদিকের সিটের বসে থাকা যাত্রীর ডান পা বাইরে বেরিয়ে থাকবেই -- এ কথা আমি হলপ করে বলতে পারি। তবে সবচেয়ে অসুবিধে হয় যদি কেউ একদম শেষের সিটটিতে বসে। এই সিটটির মাপ স্বাভাবিক চেহারার পাঁচজনের ইয়ের চেয়ে সামান্য বেশি -- টেনেটুনে এটাকে 5 and a half seater বলা যেতে পারে, তার চেয়ে বেশি কখনোই নয়। কিন্তু খেয়াল করে দেখবেন "দাদা, একটু চেপে বসুন" বলে সেই সিটে ছয়জন যাত্রী বসবেই।
এই সিটে বসার একটা অলিখিত নিয়ম হচ্ছে যে প্রথম পাঁচ যাত্রী মোটের উপর একটু ভালো ভাবেই বসতে পারবে, পিছনের সিটে হেলান দিয়ে। তবে ষষ্ঠ যাত্রীকে সর্বদা সামনে ঝুঁকে বসে থাকতে হবে, সেই মুহূর্তে এই যাত্রীর আর সিটের মধ্যে সংস্পর্শ থাকবে সামান্যই। শেষ সিটের অন্য কোন যাত্রী সিট ছেড়ে উঠলে পরে বাকি বসে থাকা যাত্রীরা নিজেদের মধ্যে একটু নড়েচড়ে বসে এই ষষ্ঠ যাত্রীটিকে ভালো ভাবে বসার ব্যবস্থা করে দেন; আর নতুন যে যাত্রী এই সিটে এসে বসে তাকে আগেরজনের মতো পিঠটা কুঁজো করে বসতে হয় -- নবীনকে সর্বদা প্রবীণের জন্যে এই কষ্টটা মেনে নিতে হবে, এটাই নিয়ম।

একবার আমি এইরকম এক পিছনের সিটে বসেছি -- ষষ্ঠ যাত্রী হিসেবে। খানিকক্ষণ পর আমার পাশের পাশের যাত্রীটি তার স্টপেজ এসে যাওয়ায় সিট ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এদিকে আমার পাশের যাত্রীটি কিন্তু এতোটুকুও নড়ার প্রয়োজন বোধ করলেন না, তাই অপর এক যাত্রী ভালো ভাবেই বসার সুযোগ পেয়ে গেলেন। অন্যের উপকারে আমার কি লাভ ? আমার মতো সুস্বাস্থ্যের অধিকারী একজনের সামনের দিকে ঝুঁকে ওইভাবে বসে থাকাটা যে কি কষ্টের, সেটা একবার ভেবে দেখুন ! আমার তো পিঠ টনটন করছে; ওদিকে আরেকজন যাত্রী উঠে পড়লেন, এবারও আমার পাশের যাত্রীটি সরে বসলেন না একটুও।
হঠাৎ ওনার মোবাইলে ফোন আসায়, আমার পাশের যাত্রীটি টাইট প্যান্টের পকেট থেকে মোবাইলটি বার করার উদ্দেশ্যে উঠে দাঁড়ান। আমিও সুযোগ বুঝে টুক করে নিজের বসার জায়গার দখল নিয়ে নিই। মোবাইলটা কানে দিয়ে ফের সিটে বসতে গিয়ে ভদ্রলোক বুঝতে পারেন ইতিমধ্যে ওনার কি ক্ষতি হয়ে গেছে। সেই মুহূর্তে ওনার মুখে বিরক্তির অভিব্যক্তিটি দেখে আমার যে কি যারপরনাই আনন্দ হয়েছিল তা আমি লিখে প্রকাশ করতে পারব না।

No comments: