কলেজে আমার এক সুদর্শন ব্যাচমেট ছিল। তার ছিল অভিনয়ের শখ। তাকে একবার আমি গিরীশ মঞ্চে অভিনয় করতেও দেখেছি। এই সব কাজে ব্যস্ত থাকার দরুণ সে মাঝে মাঝেই ক্লাস মিস করতো। একবার এক সাবজেক্টের viva চলছে, viva নিচ্ছেন আই.টি. ডিপার্টমেন্টের HoD -- তিনি আবার ভীষণ রাগি। স্বাভাবিক ভাবেই ক্লাসে অনুপস্থিতির ফলে আমার সেই বন্ধুটির প্রস্তুতি অতি সামান্য। তার উপর আবার কম উপস্থিতির হারের জন্যে তিরস্কার তো কপালে আছেই। যথা সময়ে তার পালা এলে পর সে সেই সাবজেক্টের বইটা হাতে নিয়েই স্যারের রুমে ঢুকে পড়লো। আমরা তো অবাক। কিছুক্ষণ পরে বেরিয়ে এসে তার মুখে হাসি দেখে তো আমাদের চোখ ছানাবড়া। তাকে সবাই মিলে ছেঁকে ধরায় সে যা বললো, সেই জবানীটা ছিল অনেকটা এই রকম:
"বুঝতেই পারছিস আমার প্রিপারেশন বলতে কিছুই ছিল না। তাই দুগ্গা বলে সাবজেক্টের বইটা হাতে নিয়েই স্যারের রুমে ঢুকে পড়লাম। ঢুকেই প্রথমে স্যারের সামনে কেঁদে ফেললাম। স্যারকে বললাম --
"আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে। বাবা বলে দিয়েছে আর আমার পড়ার খরচা জোগান দিনে পারবেন না। তাই রোজগারের চেষ্টায় একটা ব্যবসা শুরু করেছি -- রোজ তার পেছনেই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়, ক্লাসেও তাই নিয়মিত আসতে পারিনা। আমি স্বীকার করছি যে আপনার সাবজেক্টটা আমি ভালো জানি না, তবে বিশ্বাস করুন স্যার, আমি এই বিষয়টা সত্যি সত্যি ভালো করে শিখতে চাই। সেই কারণে আমি বইটাও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি -- আপনি যদি দয়া করে ইম্পর্টান্ট চ্যাপ্টারগুলো দাগ দিয়ে দেন তাহলে আমার বড় উপকার হয়।"
স্যার তো পুরো গলে জল। বইয়ে দাগ দিলেন, সাথে এটাও বললেন যে উনি বোঝেন আমাকে কতো প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমার মতো ছেলেরাই নাকি দেশের ভবিষ্যত। -- আশা করি ধরতেই পেরেছিস, আসলে সবটাই আমার অসাধারণ অভিনয়ের ফল।"
এই বলে আমার বন্ধুর মুখের হাসিটা আরো চওড়া হয়ে গেল।
"বুঝতেই পারছিস আমার প্রিপারেশন বলতে কিছুই ছিল না। তাই দুগ্গা বলে সাবজেক্টের বইটা হাতে নিয়েই স্যারের রুমে ঢুকে পড়লাম। ঢুকেই প্রথমে স্যারের সামনে কেঁদে ফেললাম। স্যারকে বললাম --
"আমি খুব গরিব ঘরের ছেলে। বাবা বলে দিয়েছে আর আমার পড়ার খরচা জোগান দিনে পারবেন না। তাই রোজগারের চেষ্টায় একটা ব্যবসা শুরু করেছি -- রোজ তার পেছনেই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হয়, ক্লাসেও তাই নিয়মিত আসতে পারিনা। আমি স্বীকার করছি যে আপনার সাবজেক্টটা আমি ভালো জানি না, তবে বিশ্বাস করুন স্যার, আমি এই বিষয়টা সত্যি সত্যি ভালো করে শিখতে চাই। সেই কারণে আমি বইটাও সঙ্গে করে নিয়ে এসেছি -- আপনি যদি দয়া করে ইম্পর্টান্ট চ্যাপ্টারগুলো দাগ দিয়ে দেন তাহলে আমার বড় উপকার হয়।"
স্যার তো পুরো গলে জল। বইয়ে দাগ দিলেন, সাথে এটাও বললেন যে উনি বোঝেন আমাকে কতো প্রতিকূলতার মধ্যে পড়াশুনা চালিয়ে যেতে হচ্ছে। আমার মতো ছেলেরাই নাকি দেশের ভবিষ্যত। -- আশা করি ধরতেই পেরেছিস, আসলে সবটাই আমার অসাধারণ অভিনয়ের ফল।"
এই বলে আমার বন্ধুর মুখের হাসিটা আরো চওড়া হয়ে গেল।
No comments:
Post a Comment